Notice: Trying to get property 'post_excerpt' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 56

Notice: Trying to get property 'guid' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 58

পার্বত্যাঞ্চলে মাছ চাষের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হাতে নেয়া হবে: চিনু এমপি

Kawkahli -Fish Pic-01 (1)

কাউখালী প্রতিনিধি ॥
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার একমাত্র সরকারী মৎস্য পোনা উৎপাদন কেন্দ্র কাউখালী মিনি মৎস্য হ্যাচারীতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। বুধবার (৮এপ্রিল) বিকেলে কাউখালী মিনি মৎস্য হ্যাচারীতে ২০১৫ সালের মাছের কৃত্রিম প্রজনন (মৎস্য রেনু ও পোনা) উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় মাছ চাষ সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য এলাকায় মাছ চাষের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। পার্বত্য এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমানে পাহাড়ী ঘোনায় বাঁধ দিয়ে ক্রিকের মাধ্যমে মাছ চাষের যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে আগামীতে এ প্রকল্পের কাজ আরো সম্প্রসারিত করা হবে।

তিনি বলেন, মাছ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে যেমনি স্বাবলম্বী হওয়া যায় তেমনি বেকারত্বও দূর হয়। পার্বত্য এলাকার মাছ চাষীরা যেমনি আর্থিকভাবে লাভবান হবে তেমনি এ এলাকার মাছের ঘাটতি পূরণ করে জাতীয় অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। মাছ চাষ করে আগামীতে এ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিপ্লব ঘটানো যাবে। তিনি মাছ চাষে এগিয়ে এসে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলের মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান মিয়া, উপ-প্রকল্প পরিচালক আবদুর রহমান, কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস,এম চৌধুরী, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ বেলাল উদ্দিন। এ সময় অন্যান্যর মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কমল বরন সাহা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ফিরোজা বেগম চিনু এমপি বলেছেন, মাছ চাষে যারা আগ্রহী তাদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পাহাড়ের মধ্যে ক্রীক তৈরী করে মাছ চাষে এ এলাকার মানুষকে আরো উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, মাছে ভাতে বাঙালী যে প্রচলন রয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। শুধুমাত্র মাছ চাষ করে বিশাল পরিমাণ মুদ্রা অর্জন করা যায়। তিনি কাউখালী মিনি মৎস্য হ্যাচারী থেকে উৎপাদিত রেনু ও পোনা জেলার সর্বত্র যেন পৌঁছে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানান। পরে তিনি মা-মাছকে ইনজেকশন পুশ করে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রসঙ্গত তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে অন্যতম এ হ্যাচারী পুরোদমে রেনু পোনা উৎপাদনে যাওয়ার ফলে পুরো রাঙামাটি জেলাসহ আশেপাশের এলাকাগুলো উন্নত জাতের পোনা সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে চাষীরা সচরাচর বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে পোনা ক্রয় করতে পারবে। যা বাজার মূল্যের অর্ধেকেরও কম বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সরকারী এই হ্যাচারীতে নায্যমূল্যে রেনু ও পোনা বিতরণ করা হয়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার দুর্গম বিভিন্ন এলাকাসহ কাউখালী উপজেলা পার্শ্ববর্তী সমতল জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ চাষীরা সরকারের দেয়া কাউখালী মিনি মৎস্য হ্যাচারী থেকে নায্যমূল্যে রেনু ও পোনা সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এ হ্যাচারী থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুটি, কার্প ও গ্লাসকার্পে প্রজাতির পোনা ও রেনু উৎপাদন করা হয় বলে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন