বৈঠকে আসা জুম্ম ছাত্র জনতার ৬ জনই ইউপিডিএফ : সুপ্রদীপ চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, ‘জুম্ম ছাত্র জনতা নামে যে গ্রুপটা হয়েছে, তাদের সাথে আজকে আমি বৈঠক ডেকে কথা বলেছি। বৈঠকে তারা ৬ জন এসেছিল। এই ৬ জনই হচ্ছেন ইউপিডিএফ। আমি একে একে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা বললেন যে, আমরা ৬ জনই ইউপিডিএফ।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আজকে এদেরকে বলেছি, গত কয়েক দিনে আপনারা যা যা করলেন আমার মনে হয় না এটা ম্যাচিউরড ওয়েতে হয়েছে। ম্যাচিউরিরিটির এখানে কমতি আছে। আমি যখন একটা ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করব, সেটা মাল্টি ইস্যুতে নিয়ে গেলে বাইরের লোক ঢুকে পড়বে। সুতরাং একটা ইস্যু নিয়ে থাকেন, অবজেকটিভ ফুলফিল করেন।’
২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাঙামাটি জেলা শহরের গর্জনতলী ও তবলছড়ি কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এসব কথা বলেন। উপদেষ্টার এমন মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ’র এই সহিংস অপতৎপরতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সার্কিট হাউজে খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জুম্ম ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
বৈঠকে খাগড়াছড়ির আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠক শেষে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতার’ পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ি সদরে এক মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কয়েকটি পাহাড়ি সংগঠন। অভিযোগ উঠেছে, ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে ধর্ষণ ঘটনা সামনে এনে আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ সহ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন।
তবে জুম্ম ছাত্ররা এক বিবৃতিতে বলেছে, জুম্ম ছাত্র-জনতা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীও নয়। আমাদের আন্দোলনকে “ইউপিডিএফ” বা অন্য কোনো ট্যাগ দিয়ে দমন করা যাবে না। ২৩ সেপ্টেম্বর এক জুম্ম কিশোরীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগে ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার।’

















