রাঙামাটি বিএনপিতে পাহাড়ি-বাঙালি বিভেদ চাঙ্গা, কোন্দল-গ্রুপিং প্রকাশ্যে
স্টাফ রিপোর্টার:
রাঙামাটি বিএনপিতে পাহাড়ি-বাঙালি ভেদাভেদ চরম আকার ধারণ করেছে। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিনষ্ট হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সৃষ্টি করেছে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য। বিভেদ-বৈষম্য রূপ নিয়েছে প্রকাশ্যে। এতে জেলা বিএনপিতে জ্বলছে গৃহদাহ। গোছানো ঘর হয়ে যাচ্ছে এলোমেলো। ছিন্নভিন্ন হতে চলেছে দলটি। নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের লড়াইয়ে স্নায়ুযুদ্ধে অবতীর্ণ জেলা শীর্ষ নেতারা। দলীয় নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ পাহাড়ি-বাঙালি বিভেদ আর বৈষম্য নিয়ে। এতে দলের সাংগঠনিক সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। দলে আধিপত্যের লড়াই নিয়ে মুখোমুখি একাধিক গ্রুপ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন ঘিরে বিভেদে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে রাঙামাটি জেলা বিএনপি। আগামী ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ইতোমধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলার দুইটি পৌরসভাসহ উপজেলাগুলোর কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। জেলা বিএনপির নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির দলীয় কোন্দল দীর্ঘদিনের। সম্মেলন ঘিরে তা হঠাৎ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন বিএনপির জেলা, উপজেলাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মূলত: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে তৎপর পরস্পরবিরোধী দুটি গ্রুপ। এখন মুখোমুখি অবস্থানে গ্রুপ দুটির নেতাকর্মীরা। যে কোনো মুহূর্তে উভয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ি-বাঙালী নেতাকর্মীদেরকে কোনঠাসায় ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল গ্রুপটি চাইছে রাঙামাটিতে অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপিকে শক্তিশালী করা। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে একটি গ্রুপ মরিয়া পাহাড়ি নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে পাহাড়িমুক্ত বিএনপি গঠন করার জন্য।
এ গ্রুপটি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ‘পাহাড়িমুক্ত বিএনপি চাই’ শীর্ষক শ্লোগানে গত বুধবার বিকালে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। দাবিটি নিয়ে বিকাল ৩টায় শহরের পৌরসভা চত্ত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে দলীয় অফিসে গিয়ে সমাবেশ করা হয়। ‘সচেতন বিএনপি পরিবার’ ব্যানারের নামে অনুষ্ঠিত ওই মিছিল ও সমাবেশে নিম্নসারির নেতা নগর যুবদলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি সুমন, যুগ্ম-সম্পাদক লিংকনসহ অন্যরা নেতৃত্বে দেন।
দলে পাহাড়ি সদস্য না রাখার বিষয়ে রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভা মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে ভূট্টো বলেন, ‘আমরা পাহাড়িমুক্ত নয়, জেএসএসমুক্ত বিএনপি চাই। তবে উগ্র-সম্প্রদায়িক সভাপতি বা কোনো নেতাকর্মী চাই না।’ তিনি বলেন, দলের জন্য যিনি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবেন আগামী নির্বাচনে তাকে প্রার্থী দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে রাঙামাটিতে ‘পাহাড়িমুক্ত বিএনপি চাই’ দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মতামত জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘এ ধরনের কার্যকলাপ তথাকথিত কিছু আওয়ামী লীগ নেতার ইন্ধনে বিএনপির কাউন্সিলকে বিনষ্ট করার পায়তারা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে যারা এতে জড়িত তাদেরকে রাজপথে প্রতিহত করা হবে।’ এখানার বিএনপির একটি চক্র এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন দীপেন দেওয়ান।


















