৪ দিন পর ফের চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌরুটে ফেরী চলাচল শুরু

fec-image

অবশেষে চারদিন পর রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় চন্দ্রঘোনা- রাইখালী নৌরুটে ফেরী চলাচল শুরু হয়েছে।সোমবার (১১ আগষ্ট) সকাল ৭ টা থেকে ফেরী চলাচল শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন, রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ- সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর স্রোত কমে আসায় ফেরী চলাচলের সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট আড়াইফুট খুলে সেকেন্ডে ৫০ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ১০৭ দশমিক ৬ ফুট মিনস সি লেভেল।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেন, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই সচল রয়েছে। পাঁচটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে প্রতিদিন ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে বলে যোগ করেন।

পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ২৩০ থেকে ২৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার সক্ষমতা রয়েছে।

সোমবার সকালে চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কর্ণফুলীর নদীর দুই পাড়ে অসংখ্য
হালকা এবং মাঝারি যানবাহন ফেরিতে উঠছে। আবার কিছু কিছু যানবাহন ফেরিতে উঠার অপেক্ষা করছে।

ফেরী চলাচলের কারণে ফলে রাঙামাটির কাপ্তাই, রাজস্থলী উপজেলা, বান্দরবান জেলাবাসী এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বাসিন্দাদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

ফেরী পার হওয়া বাস চালক জামাল হোসেন, ট্রাক চালক জনি সূত্রধর, সিএনজি চালক করিম ও জনি মারমা এবং জীপ চালক মো: আলম তারা সকলে বলেন, কর্ণফুলী নদীতে পানির স্রোত বেশী থাকায় গত ৪ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। সোমবার হতে ফেরি চালু হওয়ায় আমাদের কষ্ট লাগব হবে।

কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত বলেন, দীর্ঘ চারদিন পর চন্দ্রঘোনা- রাইখালী রুটে ফেরী চলাচল শুরু হওয়ায় পুরো তিন উপজেলা এবং এক জেলাবাসীর জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে।
ফেরী এলাকা আবার ব্যস্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে।

গত ০৭ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধের ১৬ জলকপাট সাড়ে তিনফুট খুলে দিয়ে সেকেন্ডে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছিলো। যে কারণে কর্ণফুলী নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে চন্দ্রঘোনা- রাইখালী নৌ রুটে ফেরী চলাচল বন্ধ রাখে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন