বান্দরবানে ভূমিকম্পের মত ঝাঁকুনি দিয়ে বিকট শব্দে পাহাড় ধস, জনমনে আতংক

মো: আল আমিন:
বান্দরবানে বিশাল একটি পাহাড় বিকট শব্দে ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পেরমত ঝাঁকুনি দিয়ে বিকট শব্দের পাহাড়টি ধসে পড়ায় আশাপাশের কয়েকটি পাহাড়ে বড়বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এঘটনায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে। শুক্রবার সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, সদর উপজেলার মেঘলা পর্যটন মোটেলের পেছনে ভান্ডারি পাড়া এলাকায় ২ একরের একটি উঁচুপাহাড় ধসে গিয়ে প্রায় ৩’শফুট নিচে দেবে গেছে। ধসে পড়া পুরো পাহাড়টি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে আম, লিচু, কলাগাছ ও কাঠালসহ বিভিন্ন ফলজের শত শত গাছ।
ভূমিকম্পেরমত ঝাঁকুনি দিয়ে বিকট শব্দের কারণে আশাপাশের আরো কয়েকটি পাহাড়ে বড়বড় ফাটলদেখা দিয়েছে। এসব পাহাড়ও যে কোনসময় ধসে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েকদিনের থেমে থেমে বৃষ্টিতে পাহাড়টিতে বড় একটি ফাটল দেখা দেয়। বৃহস্পতিবারসকাল থেকে বৃষ্টিপাতের ফলে সন্ধ্যায় বিকট শব্দে পাহাড়টি ধসে পড়ে যায়। পাহাড়টি ধসে যাওয়া সময় মেঘলা, রেইছার আশাপাশের এলাকায় ভূমিকম্পেরমত ঝাঁকুনি অনুভুতি হয়। এসময় লোকজনের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। অনেকে ঘর থেকে বাহিরের বের হয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী কাঠুরিয়া আবুল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবারসন্ধ্যায় তিনি পাহাড়ে কাঠ সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরা সময় পুরো পাহাড়টি কেঁপে উঠে এবং বিকট একটিশব্দ শুনতে পান। এতে তিনি ভয় পেয়ে যান। পরে এসে দেখতে পান পাহাড়টি ধসে গেছে। রেইছার লম্বাঘোনা পাড়ার বাসিন্দা মিনু চিং মারমা, লাচিনু মারমাসহ বেশ কয়েজন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ও এলাকার অনেকে বিষ্ফোরনের মত বিকট শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তারা মনে করেছেন হলুদিয়া এলাকায় সেনা বাহিনীর প্রশিণকেন্দ্রের আওয়াজ। কিন্তু পরে খবর নিয়ে যান পারেন ভান্ডারি পাড়া এলাকায় বিশাল একটি পাহাড় ধসে পড়েছে।
গতকাল শুক্রবার তারাসহ এলাকার লোকজন ধসে পড়া পাহাড়টি দেখতে এসেছেন। এসময় তারা আরো কয়েকটি পাহাড়ে বড় বড় ফাটল দেখতে পেয়েছেন। এসব পাহাড়ও যেকোন মূহুর্তে ধসে পড়ার আশংকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। তবে স্থানীয় পাহাড়ী জানান, বিশাল দেবতার মত পাহাড়টিতে উপজাতীরা বিভিন্ন সময় পূজা করে থাকেন। পাহাড়ের উপর একটি বৌদ্ধ মন্দির (জাদি) রয়েছে। গত কয়েক দিন আগে তারা পাহাড়টিতে বিশাল আকৃতির একটি সাপকে অবস্থান করতে দেখতে পেয়েছে। এত বড় সাপ তারা কখনোই দেখেনি। তাদের ধারণা সাপটি দেবতা। দেবতার অভিশাপে পাহাড়টি ধসে গেছে। এই সময় অনেকে দেবতার হাত থেকে নিজেদের ও বাকি পাহাড় রক্ষায় পূজাও করেন। পাহাড়ের মালিক উচানু মারমা জানান, পাহাড়ে আম, লিচু, কলা ও কাঠালসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের বিশাল বাগান ছিল। পাহাড় ধসে যাওয়ায় সকল গাছ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এতে তিনি কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মূখে পড়েছেন।
শুক্রবারবিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক কে.এম. তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল আহসান। এসময় তারা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়টি ধসে গেছে বলে জানান। এবিষয়ে বান্দরবানের মৃত্তিকা ও পানি সংরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, ১৪ আগস্ট হঠাৎ করে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়টি ধসে পড়েছে। তিনি আরো বড় ধরণের ধসের আশংকাপ্রকাশকরেছেন। তিনি আরো বলেন, অবাধে বনাঞ্চলউজাড়, পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলনেরফলে প্রতিবছরবর্ষা মৌসূমে ব্যাপক পাহাড় ধসে প্রাণহানি ও সম্পদহানির ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে তিনি স্থানীয়দের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
Facebook Comment


















