শয়নকক্ষে নিয়ে কিশোরীকে জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ


কুমিল্লার লাকসামে সৎ পিতার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে রেলওয়ে জংশনের ইঞ্জিনিয়ারিং কলোনীতে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী লাকসাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষার পর বাসায় অবস্থানকালে সৎ পিতা বারবার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার গায়ে হাত দিতেন। একপর্যায়ে গত ২৭ জুলাই রাতে তাকে শয়নকক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে হুমকি দিয়ে একাধিকবার একই ধরনের আচরণ করেন তিনি।
সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট সকালে খালি বাসায় একা পেয়ে জিকু কিশোরীকে জোরপূর্বক আলিঙ্গনের চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাটি কিশোরীর মা প্রত্যক্ষ করলে অভিযুক্ত উল্টো মেয়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিতে শুরু করেন। এরপর মা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর মা, ছোট বোন ও কয়েকজন প্রতিবেশীকে এ ঘটনার সাক্ষী হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা বাংলাদেশ রেলওয়ের পিডব্লিউডি বিভাগে চাকরি করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে প্রথম স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে তার বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০২১ সালের জুলাই মাসে তিনি নূরে আলম মীর জিকু (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই জিকু ওই কোয়ার্টারে স্ত্রী ও সৎ মেয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
ভুক্তভোগী বলেন, “আমি তাকে নিজের পিতার মতো বিশ্বাস করতাম। কিন্তু সে এমন আচরণ করবে, তা কল্পনাও করিনি। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “একজন নারী কখনো স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলে না। নিজের চোখে মেয়ের প্রতি অন্যায় দেখেছি। এর ন্যায্য বিচার চাই। সমাজের সচেতন মানুষদেরও আমাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
লাকসাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামিকে আদালতে চালান করা হয়েছে। আদালতের রিমান্ড আদেশ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















