সীমান্তে ইয়াবা পাচারের জোন সোনাইছড়ি সড়কের ঘোনারপাড়া

মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে সীমান্ত ইয়াবাপাচারের জোন সোনাইছড়ি সড়কের ঘোনারপাড়া থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে একজনকে।
ককসবাজার দিয়ে পাচারকালে লক্ষাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে পুলিশ। এই সাথে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত মোটরবাইকসহ ১ শ্রমিককেও আটক করেন তারা। এর ৫ দিন আগে একই স্থান থেকে রাবের-১৫ এর আভিযানিক একটি দল ২ জন বহনকারীসহ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ হোছেন ও ওসি (তদন্ত) ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযানকারী দলটি গোপন সূত্রে খবর পান সীমান্ত পার হয়ে একদল চোরাকারবারী একটি বড় চালান নিয়ে কক্সবাজার পাচার করবে। এটি তারা রামু বাইপাস নিয়ে যাবে প্রথমে। পরে কক্সবাজারের ইয়াবা বাজারে। এ ধরণের খবর জেনে পুলিশ কর্মকর্তারা দলবল নিয়ে অভিযানে নামে।
পুলিশ জানান,আভিযানিক দলটি প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘুনগাছতলার পাহাড়ি পথ বেয়ে ১ কিলোমিটার পর রামু রাজারকুলের পঞ্জেগানা সড়কের মধ্যম ঘোনারপাড়ায় উৎপেতে থাকে। নিশ্চিৎ হয়ে তারা নতুন কবরস্থানের দক্ষিণ পাশ দিয়ে আসা ১টি মোটরবাইক আরোহীকে চ্যালেঞ্জ করেন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ১৩ কাটে মোট এক লক্ষ ত্রিশ হাজার পিস ইয়াবা টেবলেট ও একটি কালো রংয়ের জিক্সার মোটর সাইকেল জব্দ করেন।
আটক হওয়া ব্যক্তি আবু তাহের। সে ইয়াবা পাচারকাজের শ্রমিক। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে। পুলিশ আরো জানান, আটক আবু তাহের রাজাপালং এর ঘিলাতলী এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে। সে পেশাদার। গড়ফাদার আছে এ কাজের।
ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফ হোসেন। তিনি আরও জানান এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযান চলমান থাকবে।
এর আগে গত ৫ দিন আগে (২৮ আগষ্ট) রাজারকূল ইউনিয়নের সেই ঘোনারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৯৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫।
সোনাইছড়ির বাসিন্দা, ছৈয়দ আলম, মংকিউ চিন মার্মা ও মোস্তাক আহমদ জানান,পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী স্বশস্ত্র আরকান আর্মির খাদ্য জোগানের একমাত্র সহায়ক এ ইয়াবা টেবলেট। যা বহনে সহজ ও আয় হয় কোটি টাকা।
তাই জঙ্গলাকীর্ণ সোনাইছড়ির ১০টি পথ বেয়ে এ ইয়াবা টেবলেট ককসবাজার ও চট্টগ্রামে পাচার হচ্ছে প্রতিদিন । যার সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। এর কিছু অংশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্দ করছে মাত্র। বাকী ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। এ সব বন্ধ করতে পদক্ষেপ জরুরী ।

















