হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে : আইআরজিসি


ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালী তাদের নিয়ন্ত্রণে দৃঢ়ভাবে রয়েছে এবং একই সাথে তারা এই অঞ্চল জুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
বুধবার (১ মার্চ) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি তাদের নৌবাহিনীর চূড়ান্ত ও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিবৃতি আইআরজিসি জানায়, হামলা কমে যাওয়ার যে দাবি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৯তম ধাপের অংশ হিসেবে আমাদের নৌবাহিনী (১ এপ্রিল) ভোর থেকে পাঁচটি বড় আকারের ও ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা, প্রথম হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমা ও দ্বীপপুঞ্জে একটি সামুদ্রিক কাঠামোতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি আগাম সতর্কীকরণ বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
‘অবৈধ জায়নবাদী শাসনের’ মালিকানাধীন ‘অ্যাকুয়া ১’ নামে চিহ্নিত একটি তেল ট্যাঙ্কারকে মধ্য পারস্য উপসাগরে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সেটিতে আগুন ধরে যায় বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
আইআরজিসি-র ভাষ্যমতে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সীমানার বাইরে মার্কিন বাহিনীর একটি গোপন সমাবেশস্থলে বিপুল সংখ্যক আক্রমণকারী ড্রোন ও বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। যার ফলে তাদের অনেক নৌ কর্মকর্তা আহত হয়েছের
এর বাইরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার করে আল-উদেইরি ঘাঁটির একটি চিনুক হেলিকপ্টার প্রস্তুতি কেন্দ্র এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণের হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
আইআরজিসি জানায়, উত্তর ভারত মহাসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী গ্রুপ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকে একাধিকবার আক্রমণকারী ড্রোন পাঠানো হয়েছে এবং স্যাটেলাইট চিত্র ও নথিপত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে, গ্রুপটি তার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে সমুদ্রের আরও গভীরে চলে গেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এতে আরও জানানো হয় যে, এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি সমাবেশস্থলে আইআরজিসি-র এক নৌ হামলায় ৩৭ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন, যাদের পরবর্তীতে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আইআরজিসি দাবি করছে যে, হরমুজ প্রণালী তাদের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে দৃঢ়ভাবে রয়েছে এবং দাবি করেছে যে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের “নাটকীয় অঙ্গভঙ্গির” করলেও এই জলপথটি পুনরায় তাদের জন্য খোলা হবে না।
২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার হামলা পালটা হামলা এখন চলমান রয়েছে। ইসরাইলি হামলায় ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনে সহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে। প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসক গোষ্ঠী্র বিরুদ্ধে পালটা হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
উৎস : তাসনিম নিউজ

















