হিন্দুরা ছাড়াও দেশের ১৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব দুর্গাপূজা

fec-image

বাংলাদেশে বাঙালি হিন্দুদের বাইরে অন্তত ১৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করে। এদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিপুরা, হাজং, বানাই, ওরাওঁ, মাহাতো, পাত্র, কোচ, বর্মন, গঞ্জু, ডালু-সহ আরও কয়েকটি সম্প্রদায়। তবে বাঙালি হিন্দুদের দুর্গাপূজায় ব্রাহ্মণের মন্ত্র পাঠ করা, দেবদেবীর মূর্তি গড়া হলেও এর সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পালন করা দুর্গা পূজার খানিকটা পার্থক্য রয়েছে জানা যায়।

রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, রাজশাহী-সহ কয়েকটি জেলায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা দুর্গাপূজা উৎসব পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এসব এলাকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো প্রতিবছর নিজস্ব আচার ও সংস্কৃতি অনুযায়ী এই দুর্গাপূজা করে আসছে। আর এ কারণে এসব জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে আসা বিভিন্ন আচারের মিশেল ঘটেছে তাদের দুর্গাপূজার আচারে।

তবে গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে নৃগোষ্ঠীর পালন করা দুর্গাপূজার মণ্ডপ, দেবদেবীর পোশাক-আশাক ও সাজসজ্জায় আড়ম্বর এসেছে বলে দেখা গেছে এবং প্রচলিত বাঙালি দুর্গাপূজার সাজসজ্জার সাথে সাদৃশ্য বেড়েছে। তবে এসব জাতিগোষ্ঠীর অনেক মানুষ আবার মূলত প্রকৃতি পূজারী, অর্থাৎ কেউ সূর্য পূজা করেন, কেউবা করেন গাছের পূজা, আবার কেউ ধানের পূজা, কেউবা মনসার পূজা করেন। শক্তির প্রতীক হিসেবেই মূলত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা দুর্গার পূজা করেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে দুর্গাপূজা পালনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যে কারণে ওই সময় থেকেই বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মধ্যে দুর্গাপূজা পালনের রীতি চালু হয় বলেও মনে করেন কোন কোন বিশেষজ্ঞ।

উৎস : বাংলাদেশে ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে শেষ হবে। এই পাঁচ দিন যথাক্রমে দুর্গা ষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত।

উৎস : বিবিসি বাংলা ও ইন্টারনেট অবলম্বনে

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দুর্গাপূজা, পার্বত্য
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন