“পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে সংক্রান্ত গুজব থেকে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। গুজবের সত্যতা ও মাত্রার প্রতি লোকজনের মনযোগ বেড়ে যায় নেত্রকোনায় শিশুর গলাকাটা মাথা ও বিভিন্ন স্থানে এ সংক্রান্ত নানা ঘটনায়। উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের মাঝেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতংক বিরাজ করছে।”
উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিওকর্মীরা

উখিয়ায় ছেলেধরা আতঙ্ক; প্রাথমিকে কমেছে উপস্থিতি

fec-image

উখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ নুরী বলেন, গুজবের কারণে অনেক স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সর্বত্র ছেলেধরা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিশুদের নিয়ে চিন্তায় রয়েছে অভিভাবকরা। এখানকার স্কুল, মাদ্রাসাগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কমে আসছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত বিভিন্ন এনজিওকর্মীরাও উৎকণ্ঠার মধ্য রয়েছে। এ অবস্থায় কালো গ্লাসের গাড়ির প্রতি সাধারণ লোকজনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে।

পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে সংক্রান্ত গুজব থেকে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। গুজবের সত্যতা ও মাত্রার প্রতি লোকজনের মনযোগ বেড়ে যায় নেত্রকোনায় শিশুর গলাকাটা মাথা ও বিভিন্ন স্থানে এ সংক্রান্ত নানা ঘটনায়। উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের মাঝেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতংক বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে উখিয়ার কোথাও পর্যন্ত এ ধরনের কোন ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উখিয়া সদরের ঘিলাতলী গ্রামের প্রবাস ফেরত জামাল উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর আমার মেয়েসহ তারা তিন বান্ধবী হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। তারা উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। বাড়ি থেকে স্কুলের দুরুত্ব প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার। ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে একটি কালো মাইক্রোবাস থেকে অপরিচিত লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে গাড়িতে তুলতে চেয়েছিল বলে তিনি জানান। মেয়েরা বাড়িতে এসে ভয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে ও ঐদিন গায়ে জ্বর আসে।

এভাবে উখিয়ায় ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্কুলে খবর নিয়ে আতঙ্কিত অভিভাবকরা তাদের ছোট ছেলে মেয়েদের নিরাপত্তার অভাবে স্কুল ও মাদ্রাসায় পাঠাতে ভয় পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

উখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ নুরী বলেন, গুজবের কারণে অনেক স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

উখিয়া শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার ধর বলেন, স্থানীয় অভিভাবকরা এ ব্যাপারে কিছুটা আতঙ্কিত। তবে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি একটু কমলেও তেমন বেশি নয়। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে অভিভাবকদের সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উখিয়ার ২০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কয়েক হাজার এনজিও কর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কারণ গত বছর ছেলেধরা সন্দেহে উখিয়ার মানসিক রোগী রতনকে রোহিঙ্গারা গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলেছিল। তাই ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মীরা সর্বদা ভয়ে রয়েছে, কারণ কোন সময় কি অঘটন ঘটে যায় তা নিয়ে তারা আতংকিত বলে এনজিও সংশ্লিষ্টরা জানান। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ভাষা না জানা অন্যান্য জেলার চাকরিজীবীদের মাঝে এ উৎকণ্ঠ বেশি বলে জানা যায়।

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল মনসুর বলেন, কথিত ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে কেউ কোন ধরনের আইন শৃংখলা জনিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে কাউকে ছাড় দয়া হবে না। এ ধরনের কোন কিছু ঘটলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার আহবান জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া, এনজিও, গুজব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × two =

আরও পড়ুন