অবশেষে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈকা শাহাদাতকে বদলি

fec-image

পেকুয়ায় বহুল আলোচিত ত্রাণের ১৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের ঘটনায় অবশেষে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈকা শাহাদাতকে বদলি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাকে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান (সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে বদলি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব আলিয়া মেহের। স্মারক নং- ০৫.০০.০০০.১৩৮.১৯.০০১.২০.৪১৮। তবে এ প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ বদলি করা হয়েছে।

এর আগে ২৯ জুলাই আলোচিত ১৫ মেট্রিক টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনায় টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করে তার পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদ-১ শাখার উপসচিব মো. ইফতেখার আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়েছিল যার স্মারক নং-৪৬.০০.২২০০.০১৭.২৭.০০৫.২০২০-৭১৫।

এদিকে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হলেও এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন।

জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ১৫ মেট্রিক টন চাল করোনাভাইরাসের প্রভাবে টইটং ইউনিয়নের দিনমজুর, রিকশাচালক, অসহায় দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সৌভ্রাত দাশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা শাহাদাত স্বাক্ষরিত একটি বরাদ্দপত্রে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয় যার স্মারক নং-উ:নি:অ: ৩০৮ তারিখ: ৩১-০৩-২০২০ইং।

আর ৬ এপ্রিল টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী নিজেই উক্ত বরাদ্দকৃত চাল চিরিঙ্গা খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা।

এরইমধ্যে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল চেয়ারম্যান জাহেদকে একমাত্র আসামি করে পেকুয়ার পিআইও বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরদিন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক আদেশে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পরে গত ৩০ এপ্রিল একই ঘটনার রেশ ধরে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বদলি করা হয়। ১ মে অজানা কারণে তার বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।

পরে এ ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে গত ৪ মে মন্ত্রণালয় গঠিত উক্ত তদন্ত কমিটি পেকুয়া উপজেলায় এ বিষয়ে দিনভর শুনানি শেষে ৩৬ জনের সাক্ষ্য নেন।

পরে ১০ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈকা সাহাদাত, পিআইও সৌভ্রাত দাশ, বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান জাহেদ চৌধুরী সহ ৯ জনকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তলব করে পুনরায় সাক্ষাতকার নেয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পেকুয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine + 8 =

আরও পড়ুন