আফগানিস্তান থেকে মার্কিনীদের নিরাপদ প্রস্থানের শর্তে তালিবানদের ক্ষমতাগ্রহণ মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

fec-image

আফগানিস্তানে তালেবানের আশ্চর্যজনক পুনরুত্থান একটি মার্কিন প্রজেক্ট বলে ইঙ্গিত করেছেন আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। তালেবানদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো সমর্থিত সাবেক আফগান সরকারের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি পাঞ্জশির এর পতনের পর আত্মগোপনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহ ২ নভেম্বর ২০২১ তারিখ দুপুর বেলা অল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক দুটি টুইট করে করেন।

বেলা ১১.৫১ ঘটিকার সময় সালেহ লিখেন, ” যখন আফগানরা বিপর্যয় এবং নির্যাতনের শিকার হচ্ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি খালিলজাদ হাসিমুখে তালেবান ও হক্কানি নেটওয়ার্ক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য তদবির চালাচ্ছে। সে তার সাহিত্যিক ও ৯০ এর দর্শনে ফিরে গেছে, তারপর বড় তেল কোম্পানি গুলো কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছে। সে দোহা সমঝোতার গোপন ক্রোড়পত্র শেষ নাগাদ আমাদের কাছে লুকিয়েছে। কেন তাকে এতো খুশি দেখাচ্ছে?”

বেলা ১২.১৯ এর সময় অন্য আরেকটি পৃথক টুইটে সালেহ তালেবান ক্ষমতা দখলের পূর্ব মুহুর্তে হেলিকপ্টারে করে বিপুল পরিমাণ নগদ ডলারসহ পলায়নকারী সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি এর প্রতি লিখেছেন, “আমি আহ্বান জানাচ্ছি খালিলজাদ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কূটনীতিকদের সাথে শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়া নিয়ে হওয়া আলোচনার কথোপকথনের রেকর্ডিং আপনি প্রকাশ করে সব দোষ আফগানদের (উল্লেখ যে আফগানদের নয়, খালিলজাদ তাঁর সিএনএন ইন্টারভিউতে সুনির্দিষ্টভাবে গানি সরকারের সমালোচনা করেন) মিথ্যাচার প্রতিরোধ করুন। আমি জানি এসকল আলোচনার রেকর্ডিং বিদ্যমান এবং ওগুলো আপনার অধিকারে রয়েছে।”

সাবেক আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহ এর এই টুইটসমূহ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান আমেরিকা যে কোন মূল্য নিরাপদে আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যেতে খুবই উদ্বিগ্ন ছিল কথাটি নিখাঁদ সত্য এবং সে পথে নিজেদের পুতুল আফগান সরকার যাতে কোন সমস্যার সৃষ্টি না করে তার জন্য তাদের সামনে তালেবানের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি ও কাবুল নিয়ন্ত্রণের মিথ্যা মুলা ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

যে বিষয়ে হয়তো দোহা আলোচনার প্রথমে আমেরিকা প্রবঞ্চনামূলক গুরুত্বারোপ করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে নিজস্ব পুতুল সরকারের আলোচকদের অজান্তে নির্বিঘ্নে আমেরিকান প্রত্যাহারের তালেবান নিশ্চিতয়তার বিনিময়ে তালেবানের আফগানিস্তান পূর্ণ দখল গোপনে মেনে নেয় আমেরিকা, যেটা আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে কখনো পালিত আফগান সরকারকে বুঝতে দেয়নি। সালেহ যে সব গোপন প্রমাণ গানির নিকট থাকার দাবী করেছেন, তাঁর বদৌলতে হয়তো পালিয়ে যাওয়ার পরও গানি এখনো নিজেকে বেশ ভালো অবস্থায় টিকিয়ে রাখতে পারছেন। তেমন কোন কিছু অধিকারে না থাকার কারণে পাঞ্জশিরের পতনের পর হতে সালেহ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং পশ্চিমাদের কর্তৃক টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহৃত হয়ে ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার অনুশোচনায় পুড়ছেন।

দূর্নীতির বিষয়ে চিন্তা করলে পশ্চিমাদের পুতুল আফগান সরকারের এসব সাবেক কর্তাদের জন দরদী বাণী সমূহ মূলতঃ সিংহাসন হারানোর কান্না ব্যতীত অন্য কিছু না। পদত্যাগের পর ফারিদ জাকারিয়ার সিএনএন ইন্টারভিউতে খালিলজাদ আফগান জনগণের বর্তমান দুর্দশার পিছনে গানি সরকারের অবদান বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করায় সাবেক নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে মুখ না খুলে আর থাকতে পারলেন না ক্ষমতাচ্যুত ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ! যেহেতু এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বে তাদের অবস্থান এখন আর ডাস্টবিনেও হয়তো নেই, একেবারে ভাগাড়ে।

তালেবানরা এসে মধ্যযুগীয় কায়দায় দেশ চালাতে চাচ্ছে এবং গানিরা দখলদার পশ্চিমাদের সাথে হাত মিলিয়ে দূর্নীতি ও দেশ বিক্রির জোয়ারে ভেসে নিজেদের আখের গুছিয়েছে, মাঝখানে অত্যাচারিত, প্রতারিত এবং অবর্ণনীয় দুর্ভোগের স্বীকার সব সময় সাধারণ জনগণ। ফারিদ জাকারিয়া কর্তৃক এখনো তালেবান কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করেন কিনা প্রশ্নের জবাবে, খালিলজাদের উত্তর খুবই তাৎপর্যবহ। খালিলজাদ মূলতঃ আফগান জনগণের দূর্দশা লাঘবের কথা চিন্তা করে আমেরিকা কর্তৃক বর্তমান তালেবান নিয়ন্ত্রিত সরকারের সাথে সীমিত আকারে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরী করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

পালিয়ে থাকা সালেহ এখন আর পশ্চিমা মিডিয়া এবং পশ্চিমাদের জন্য আগ্রহের কোন কিছু না হলেও বেশ কয়েকজন সুপরিচিত ভারতীয় সাংবাদিক প্রায়শই আমরুল্লাহ সালেহ এর করা টুইটে লাইক ও রিটুইট দিয়ে মোটামুটি আলোচনা নিয়ে আসেন। এর অন্তর্নিহিত মূল কারণ আফগানিস্তান হতে আমেরিকার বিদায় এবং পশ্চিমা সমর্থিত আফগান সরকারের পতনে পার্শ্ববর্তী সকল দেশ কোন না কোনভাবে লাভবান হলেও মারাত্মক কৌশলগত ক্ষতির পাশাপাশি আফগানিস্তানে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমেরিকা ও পশ্চিমা সমর্থিত সাবেক আফগান সরকারের ক্ষমতাচ্যুত ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ এর এই দুটি টুইট থেকে আবারও প্রমাণিত হলো, “আমেরিকা কখনো বিশ্বাস যোগ্য বন্ধু নয়”।

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন, টুইটার

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − twelve =

আরও পড়ুন