উখিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে মাটি ,বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ

fec-image

দেশে বিভিন্ন আইন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ততেও ইটভাটার দৌরাত্ব্য কমছে না। মালিকরা মানছেন না কোনো নিয়মকানুন। ক্রমেই বন উজাড়, কৃষি জমির ক্ষতি ও দেশের ভূ-প্রকৃতি ধ্বংস করে মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। এতে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন হচ্ছে উখিয়ার পরিবেশ। বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, কমছে চাষাবাদের জমি ও গাছ।

সরেজমিন দেখা গেছে, উখিয়ার রত্নাপালং,  হলদিয়াপালং, পালংখালী এলাকায় রয়েছে ৭টি ইটভাটা। এছাড়াও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দুই পাশে যতদূর চোখ যায় দেখা যায় ইটভাটা আর ইটভাটা।

এসব ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি কাঠও পোড়ানো হয়। অথচ কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ। ফসলি জমিতে লোকালয়ে এসব ইটভাটার চিমনির উচ্চতা কোনোটিরই ৬০ ফুটের বেশি নয়।

অথচ চিমনি থাকতে হবে ১২০ ফুট লম্বা। ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় ওই সব এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। এমনকি আশপাশের গাছ মরে যাচ্ছে। গাছের পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে।

সচেতন মহল বলেন, বেপরোয়া লোকালয়ে ইটভাটা গড়ে উঠায় গাছে ফলন হৃাস পেয়েছে, জমি ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, ৯০ শতাংশই জ্বালানি ব্যবহার, ভাটা স্থাপন ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিধান মানছে না। ইটভাটার ধোঁয়ায় যে কার্বন মনোঅক্সাইড থাকে তা বাতাসকে যেমন দূষিত করে, তেমনি গাছপালা এবং ফসলের ক্ষতি করে।

ইটভাটার আগুনের প্রচণ্ড তাপে ইটভাটার পাশাপাশি ফসলি জমি নিস্ফলা হয়ে যায়। এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ও এখন ইটভাটার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর ইটভাটার কারণে বাতাস দূষিত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ ) আইন, ২০১৩ তে উল্লেখ আছে, ইটভাটায় ফসলি জমির উপরের মাটি ( টপ সয়েল ) ব্যবহার করলে প্রথম বারের জন্য দুই বছরের কারাণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

দ্বিতীয়বার একই অপরাধের জন্য ভাটা কতৃপক্ষকে ২ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটা স্থাপন করলে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।

কিন্তু এখনো আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। ফলে ইটভাটার আগ্রাসনও বন্ধ করা যাচ্ছে না। উখিয়ার অধিকাংশ ইটভাটায় সরাসরি গাছ পুড়ানো হচ্ছে। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

ফসলি জমির মাটির উপরি অংশ কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা।

ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষন, ভূমির উর্বরতা  হ্রাস ও বন উজাড় হচ্ছে। কৃষি জমি দিন দিন কমছে। ইটভাটাতে মাটির জোগান দিতে ফসলি জমি অকেজো গর্তে পরিণত হচ্ছে। কেবল সমতল ভূমি নয়, কোথাও কোথাও পাহাড় পর্যন্ত কাটা হয় ইটভাটার মাটি জোগাড় করতে।

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আমিমুল এসহান খান বলেন, সম্প্রতি উখিয়ার বেশ কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় ইটভাটায় অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইটভাটা, উখিয়া, ধোঁয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 11 =

আরও পড়ুন