গণহত্যায় মিয়ানমার নেতাদের সংশ্লিষ্টতা: ফেসবুককে তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিতে মার্কিন আদালতে আপিল

fec-image

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে বিশ্ব আদালতে অভিযোগ উত্থাপনকারী আইনজীবীরা ওই দেশটির সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর পোস্ট ও যোগাযোগ প্রকাশ করার জন্য ফেসবুককে নির্দেশ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।

হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ১৯৪৮ সালের কনভেনশন লঙ্ঘন করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি চলছে।

বিশ্ব আদালত নামে পরিচিত এই জাতিসংঘ আদালত রাষ্ট্র পক্ষগুলোর মধ্যকার মামলা গ্রহণ করে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে মুসলিম দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট গাম্বিয়া।

বৌদ্ধ প্রাধান্যপূর্ণ মিয়ানমারে জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের কারণে লাখ লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অধিকার গ্রুপগুলো বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিদ্রোহ দমন করেছে, পরিকল্পিত কোনো নৃশংসতা চালানো হয়নি।

২০১৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার তদন্তকারীরা জানান, বিদ্বেষ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ফেসবুক। তাদের ভূমিকার কারণেই মিয়ানমারে সহিংসতা বেড়েছিল। ফেসবুক জানিয়েছে, তারা বিদ্বেষমূলক প্রচার বন্ধ করতে কাজ করছে।

গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে ৮ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা আবেদনে মিয়ানমার সামরিক কর্মকর্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ফেসবুক পেইজে দেয়া সব নথিপত্র, যোগাযোগ, খসড়া অনুলিপি, পোস্ট প্রকাশ করার নির্দেশ দিতে বলা হয়।

ফেসবুক জানিয়েছে, তারা গাম্বিয়ার অনুরোধ সম্পর্কে অবগত রয়েছে, তারা প্রযোজ্য আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যেসব কর্মকর্তার ফেসবুক তথ্য চাওয়া হয়েছে তাদের অন্যতম হলেন মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন আঙ হ্লাইঙ। এছাড়া ফেসবুক ২০১৮ সালের আগস্টে কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার যে ২০টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে, সেগুলো সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, মিয়ানমারের এই কর্মকর্তাদের পোস্টে গণহত্যার উপাদান থাকতে পারে।

গণহত্যাকে সবচেয়ে কঠিন আন্তর্জাতিক অপরাধ বিবেচনা করা হয়। ফলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে আদালতকে বোঝাতে হবে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সবাইকে বা আংশিকভাবে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

বিশ্ব আদালত মামলাটির পূর্ণ শুনানির আগে পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও অন্যান্য ধরনের সহিংসতা থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: South Asian Monitor

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 9 =

আরও পড়ুন