পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা, হুমকিতে উপকূলের নিরাপত্তা বেস্টনী

চকরিয়ায় চিংড়িঘের করতে চলছে প্যারাবন নিধনের মহোৎসব

fec-image

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে দেখভালে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিস্কৃয় ভুমিকার সুযোগে একবছর পর ফের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় জনপদ বদরখালীতে আবারও শুরু হয়েছে প্যারাবন নিধনে জায়গার শ্রেণী পরিবর্তনের অপর্কম।

স্থানীয় কতিপয় চক্র ও বদরখালী সমিতির প্রভাবশালী মহলের যোগসাজসে ইতোমধ্যে উপকূলীয় বদরখালীর মুহুরীজোড়া স্লইস গেইট হতে ফিশারীঘাট পর্যন্ত এলাকার প্যারাবন থেকে অন্তত ২০০০ অধিক বড় আকারের বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে ফেলেছে।

নির্বিচারে প্যারাবন নিধনের কারণে হুমকিতে পড়েছে উপকুলে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের চরম আশঙ্কা।

জানা গেছে, প্যারাবনের বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে প্রস্তুত করা বিশাল পরিমাণ ওই জায়গায় বর্তমানে অভিযুক্ত দুর্বৃত্ত চক্রটি নতুন চিংড়িঘের তৈরীর কার্যক্রম চালাচ্ছে।

প্রায় একমাস যাবত উপকুলে প্যারাবনে গাছ কেটে জায়গার শ্রেণীর পরিবর্তন পুর্বক চিংড়িঘের তৈরীর অপকর্ম অব্যাহত থাকলেও দৃশ্যত কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর বা চট্টগ্রাম উপকুলীয় বনবিভাগের সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন দর্শকের ভুমিকায়। অবশ্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, ঘটনাটি তাঁরা জানেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের রাতে ২০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়। ফলে ভেঙ্গে যায় বেঁড়িবাধ। এরপর উপকূলীয় এলাকায় বনায়নে এগিয়ে আসে জাপানের একটি এনজিও সংস্থা ওয়াইস্কা ইন্টারন্যাশনাল।

এই এনজিও সংস্থাটি প্রতি বছর জাপান থেকে শিক্ষার্থী নিয়ে এসে সবুজ বেস্টনীর আওতায় ব্যাপক বাইন ও কেওড়া গাছের চারা রোপন করে। পরবর্তীতে এসব চারা বড় হয়ে গাছে রূপান্তরিত হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, প্রকাশ্যে দিবালোকে এসব প্যারাবন নিধন করা হলেও বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়ত প্যারাবন নিধনে মেতে উঠেছে।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, বদরখালী সমিতির আওতাধীন লম্বাঘোনা একশ একর চিংড়িপ্রকল্প কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত প্রকল্পের এরিয়া বাড়াতে কৌশলে প্যারাবন নিধনে মেতে উঠেছে।

প্যারাবনের গাছগুলো দেখভাল করার শর্ত-সাপেক্ষে তাদের প্রকল্পটি লিজ দেয়া হলেও তারা সে শর্ত না মেনে গাছ নিধনে মেতে উঠেছে।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, জাপান ভিত্তিক একটি এনজিও সংস্থা ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর এসব প্যারাবন সৃজন করেছিলো। তবে এটি বদরখালী সমিতির জায়গা। পরে ওই প্যারাবনটি বদরখালী সমিতির নেতৃবৃন্দরা কয়েকজন সদস্যকে লিজ দেয় চিংড়ি প্রকল্পের জন্য।

তিনি বলেন, প্যারাবনের বড় বাইন ও কেওড়া গাছ কাটার খবর স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন। তিনি বিষয়টি বদরখালী সমিতির কয়েকজন পরিচালককে জানিয়েছেন।

চকরিয়া উপকুলে প্যারাবন নিধনের ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক শেখ মো.নাজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। তবে সাংবাদিকরা বিষয়টি আমাদেরকে অবগত করেছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্যারাবনের গাছ কাটা পড়লেও বনবিভাগের কোন কর্মকর্তা অদ্যবদি বিষয়টি আমাদেরকে জানাননি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীতে প্যারাবন নিধনের বিষয়টি ইতিমধ্যে আমি জেনেছি। কারা এই প্যারাবন নিধনের সাথে সম্পৃক্ত বা জড়িত খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: এনজিও, চকরিয়া, বনবিভাগ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × four =

আরও পড়ুন