জাইকার বৈশ্বিক প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

fec-image

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর বৈশ্বিক প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তারা রোহিঙ্গাদের চলমান মানবিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো ঘুরে দেখেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার মধুরছড়া ৪-এক্সটেনশন নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। পরে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “জাইকার এই সফর বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা ও টেকসই উন্নয়নে জাইকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, “২০১২ সাল থেকে জাইকা কক্সবাজারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, জীবিকা, মৎস্য, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আরআরআরসিকে কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”

মতবিনিময় সভায় রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয় সেবার মানোন্নয়ন, দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “জাইকার অবিচল সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, এই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন