দীঘিনালার দুর্গম গ্রামগুলোতে বাড়ছে পানির সংকট

water-

দিদারুল আলম রাফি, উপজেলা প্রতিনিধি, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নেই পানির সংস্থাপন। ফলে বাড়ছে খাবার পানির সংকট। বর্ষা মৌসুমে ছড়া, কুয়া ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুবিধা থাকলেও শীত মৌসুমে এসব আস্তে আস্তে শুকাতে শুরু করে। ফলে গ্রীষ্ম চলে আসলে পানি সংকট চরম আকার ধারন করে।

দীঘিনালা উপজেলার মায়াফা পাড়া, বুদ্ধমা পাড়া, সীমানা পাড়াসহ বেশ’কটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার কোথাও কোন নলকূপ নেই। খাবার জন্য নিরাপদ পানির কোন জোগান নেই। এসব এলাকার লোকজন আশপাশের নদী, ছড়া কিংবা পাহাড়ের খাচের কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করে। এসব গ্রামের লোকজন নিরাপদ পানির ব্যবহার কি বা নিরাপদ পানি কি জিনিস এ ব্যাপারে জানে না। নদী, ছড়া, কুয়া ও ঝর্ণার পানিই তাদের কাছে নিরাপদ পানি। এসব পানি পান করা এবং অন্যান্য সকল কাজে ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়তই অসুস্থ হয়ে পরছে লোকজন। ভুগছে কলেরা, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানান পানিবাহিত রোগে।

এ ব্যাপারে গ্রামগুলোতে বসবাসরত বেশকজন লোকের সাথে কথা বললে তারা জানায়, বাপ দাদার আমল থেকেই এসব ঝর্ণা, ছড়া, নদীর পানি ব্যবহার করে আসছে তারা। এসবের পানি পান করেই দিন কাটাচ্ছে গ্রামগুলোর লোকজন। লোকজন এসব পানি খেয়েই অভ্যস্ত। এখন কোথাও কোন পানি নেই। আশপাশের সব ছড়া ঝর্ণাগুলো শুকিয়ে গেছে। খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে থেকে, তাও আবার উঁচু নিচু পাহাড় বেয়ে। গ্রামের সকলেই পানির অভাবে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

দীঘিনালা উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা দুর্গম এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানির জন্য নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেছি। মায়াফা পাড়া, বুদ্ধমা পাড়া, সীমানা পাড়া, এসব এলাকায় নলকূপ বসানোর জন্য কিছু দূর বোরিং করার পর পাথর কিংবা পাথুরে মাটি পাওয়া যায়। যার ফলে অনেক চেষ্টার পরও ভালো পানির স্তর পাওয়া যায়না। ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে নলকূপ বসানো সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন