নাইক্ষ্যংছড়িতে সোনালী ফসলে জুমিয়াদের ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা

fec-image

গোধূলিলগ্ন আর মাত্র বাকী ২ ঘন্টা। এরই মধ্যে বাড়ি ফিরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়ি জনপদ আর আকাশের পাখিরা। সবারই বাসা-বাড়ি ফেরার পালা। কারণ এ সময়-কালচি ছিলো পাহাড়ে পাহাড়ে থাকা জুমক্ষেতে ধান কাটা অপরূপ দৃশ্য। পাহাড়ি নারী-পুরুষ সবাই মিলে ধান কেটে স্তুপ করছিলো ধান খোলায়। এরপর নিয়ে যাচ্ছেন স্ব-স্ব বাড়ি-ঘরে। কেউ ধান কাটা শুরু করেন নি। কেউবা কাটছেন। আবার অনেকে এরই মধ্যে ফসল কাটা শেষ করেছেন। ফি বছরের প্রায় শেষের দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়িসহ ৫ ইউনিয়নেই সবুজ পাহাড়ে চলে -ধান কাটার মহোৎসব।

একদিকে প্রবারণা অন্যদিকে জুম কাটার উৎসব। দুটোয় সমান তালে চলছে। স্থানীয় বাজার ও পার্শ্ববর্তী গর্জনিয়া বাজারসহ সর্বত্র সবজির স্তুপ। যা ক্রেতাদের মন ভরিয়ে দিচ্ছে। তবে এ বছর জুন-জুলাই এ পাহাড় ধসের কারণে জুম চাষের জায়গা কমে গেছে। তবে এবার ফলন ভালো হয়েছে বলেছেন চাষিরা।

এভাবে জুমিয়াদের ঘরে উঠছে সোনালি ফসল। জমে উঠেছে উৎসবের আমেজ। একইসঙ্গে জুম পাহাড়ে বাম্পার ফলন হয়েছে মারফা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়শ, কাকরোল, আদা, পেঁপে ও কুমড়াসহ নানা ফসলের। জুমের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি জুমিয়া পরিবারগুলো।

একই এলাকার জুমচাষি কনিং চাকমা বলেন, ‘গত বছর জুমে ২০ কেজি ধান রোপণ করে ৪/৫ বস্তা ধান হয়েছিল। এবার ১৫/২০ বস্তা হতে পারে। গত বছরের তুলনায় এবারে জুমে ফলন ভালো হয়েছে।’

এবছর পরিবেশ ভালো থাকায় আশানুরূপ ফলন হয়েছে। এছাড়া সরকারি সুযোগ সুবিধাও তারা পর্যাপ্ত পেয়েছেন। ধান কেটে মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত জুমচাষি আবছার আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের জুমের সব ধান কাটা শেষ। সবজিগুলো এখনও আছে। পাহাড় ধসের কারণে অনেকে জুম চাষ করেনি। যারা করেছে তারা ভালো ফলন পেয়েছে।’

নাইক্ষ্যংছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র মতে, জুমচাষিরা পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালের জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আগুনে পুড়িয়ে পাহাড় জুম চাষের উপযোগী করে তোলে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পোড়া জুমের মাটিতে একসঙ্গে ধান, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা, তিল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রকম বীজ রোপণ করে। এর মধ্যে এখন ধান কাটা হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৫ হেক্টর জমির জুমের ধান আবাদের। তবে আবাদ হয়েছে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে জুম চাষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নতুন কিছু প্রজাতির ধান আগামী বছর থেকে জুমিয়াদের দিতে পারবো। সেগুলো প্রায় প্রতি হেক্টরে ৩ টন করে ধান উৎপাদন হবে।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 12 =

আরও পড়ুন