মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলো মহেশখালীর ২০ ভূমিহীন পরিবার

fec-image

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ও ভূমি মন্ত্রনালয়ের সিভিআরপি প্রকল্পের আওতায় ২০টি ভূমিহীন পরিবার পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া জমি ও পাকা ঘর। দারিদ্রসীমার নিচে বাস করা এসব পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন পাকা ঘর ও জমি পেয়ে এখন তারা মহাখুশি। তাদের চোখে মুখে বইছে আনন্দের ঝিলিক।

মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায়ের কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী উপজেলায় ২০ টি পরিবারের জন্য ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।

প্রতিটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাফুজুর রহমান বলেন, উপজেলার ভূমিহীন অসহায় দরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্ত, পুনর্বাসিত ভিক্ষুক এবং যার জমিও নেই ঘরও নেই এমন মানুষকে শনাক্ত করে এসব ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা গ্রামে, সরকারি ২ শতক খাস জমিতে শারিরিক প্রতিবন্ধী নিরাম্মদ নামে এক ব্যক্তির জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

নিরাম্মদ বলেন, ‘আমরা খুবই গরীব। আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমার পুত্র সন্তানরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে , একটি মেয়ে আছে তাকে নিয়ে অন্যের জমিতে অনেক কষ্ট করে বসবাস করতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারিভাবে ঘর প্রদান করছেন এ খবর পেয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারের সাথে দেখা করে একটি ঘরের জন্য আবেদন করি। তিনি ও স্থানীয় সাংসদ নিজে আমার বাড়িতে এসে আমার করুণ দশা দেখে সরকারি ২ শতক খাস জমি আমার নামে বরাদ্দ দেন এবং সেই জমিতে আমাকে ঘর নির্মাণ করে দেন। আমি কোনদিন ভাবতেও পারিনি আমার।

সন্তান নিয়ে পাকা বাড়িতে থাকব। আমি প্রতিদিন নামাজে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও এমপি আশেক উল্লাহ রফিকের জন্য দোয়া করি। এছাড়াও আরও যারা উপকারভোগী সরকারি বাড়ি পেয়েছেন তারা হলো কুতুবজোম নয়াপাড়ার মোতাহেরা বেগম, বিধবা সামারুক বিবি, জেলে দুুদু মিয়া, গৃহিনী বেগম জান, রেনু আক্তার, রোকসানা আক্তার, হাসিনা আক্তার, জেলে নেজাম উদ্দিন, বিধবা মমতাজ বেগম, বিধবা ছাবেকুন্নাহার, মোহছেনা বেগম, রহিমা খাতুন, জেলে সেকান্দর বাদশা, কংকর শ্রমিক সেলিনা আক্তার, জেলে কামাল পাশা, রিক্সা চালক নুরুল আলম, জেলে সিরাজ মিয়া, টমটম চালক আব্দুল হাকিম ও দিন মজুর ইমাম হোসেন।

কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন খোকন বলেন, আমার ইউনিয়নে ভূমিহীন লোকের সংখ্যা বেশি , কুতুবজোম ইউনিয়নে ২০টি পরিবারকে জমি ও ঘর উপহার দেয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ কুতুবজোমবাসীর পক্ষ থেকে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মহেশখালী উপজেলায় কুতুবজোম ইউনিয়নে ২০ জন উপকারভোগীর ঘর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। প্রতি উপকারভোগীর জন্য দুইটি করে রুম (থাকার ঘর), একটি রান্নাঘর ও একটি করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হয়।’

উপজেলা নির্বাহী মাহাফুজুর রহমান বলেন, ‘এই প্রকল্পটির প্রতি আমাদের বিশেষ নজরদারি ছিল। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করে তাদের মাঝে ঘরের চাবি তুলে দেয়া হবে।

কক্সবাজার ২ আসনের সাংসদ আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, মুজিব জন্মশতবর্ষে দেশে কোন গৃহহীন থাকবেনা, আমার নির্বাচনী এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর থাকার ফলে সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে মহেশখালীর কোন মানুষ গৃহহীন থাকবেনা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বঙ্গবন্ধু, মহেশখালী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =

আরও পড়ুন