রহমতের বার্তা নিয়ে মাহে রমজান

fec-image

রহমত, মাগফেরাত এবং নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আগমন ঘটেছে পবিত্র রমজানুল মোবারকের। এই মাস আমাদেরকে জানান দেয় আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার মাধ্যমগুলোর। এই মাসের মাধ্যমে আমরা নৈকট্য অর্জন করতে পারি মহান রবের। সান্নিধ্য অর্জনে ব্রত হতে পারি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের।

রহমতের সওদা নিয়ে আগমণ করা রমজান মাসকে হাদিসের ভাষ্যমতে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে- রাসুল (সা) তার বৃহৎ একটা ভাষণে বলেন, এটা এমন এক মাস যার প্রথম অংশে রহমত। মধ্য অংশে মাগফিরাত, শেষাংশে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত। যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধিনস্তদের ভার-বোঝা সহজ করে দেবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন- মিশকাতুল মাসাবিহ হা: ১৯৬৫

আমরা এখন অবস্থান করছি রহমতের দশদিন তথা রমজানের প্রথম ভাগে। আল্লাহ সব সময় বান্দার উপর রহমত করে থাকেন। তবে এই দশদিনে আল্লাহ বান্দার উপর স্পেশাল রহমত বর্ষণ করবেন। আমাদের মাঝ থেকে ধীরে ধীরে রমজানের প্রথম দশদিন অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেকে আত্মশুদ্ধি করার দিন ধীরে ধীরে বিদায় দিচ্ছি। অথচ আমাদের রহমত পাওয়ার পাথেয় কি অর্জিত হয়েছে!

এই রমজান মাস হল মুমিনের জন্য উত্তম একটি মাস। এই মাসে মুমিনের উপর অনবরত রহমত নাজিল হতে থাকে। তবে হাদিসের ভাষ্যমতে মুমিনদের জন্য যেমন উত্তম মাস রমজান, ঠিক মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতির মাসও এই রমজান। এই মাসে মুসলিমরা গোটা বছরের পাথেয় সংগ্র্রহে ব্যস্ত থাকে। অপরদিকে মুনাফিকরা থাকে উদাসীন আর দোষত্রুটি অন্বেষণে মগ্ন। এই মাস থেকেই আপনাকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে , মুনাফিক হয়ে সারা জীবন দোষত্রুটি অস্বেষণে মগ্ন থাকবেন , নাকি এই মাসে বেশি বেশি নেক আমল করে অন্য মাসগুলোর পাথেয় অর্জন করবেন।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলার কসম! মুসলমানদের জন্য রমজানের চেয়ে উত্তম কোনো মাস আসেনি এবং মুনাফিকদের জন্য রমজান মাসের চেয়ে অধিক ক্ষতির মাসও আর আসেনি। কেননা মুমিনগণ এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সংগ্রহ করে। আর মুনাফিকরা তাতে মানুষের উদাসীনতা ও দোষত্রুটি অন্বেষণ করে। এ মাস মুমিনের জন্য গনীমত আর মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৮৩৬৮

এই মাসে আল্লাহ তায়ালা বান্দার উপর রহমত বর্ষণের মাধ্যম স্বরুপ জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দিয়ে জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন। মুমিন যেন শয়তানের ধোকায় পড়ে গুনাহ লিপ্ত না হতে পারে তার জন্য শয়তানকেও আবদ্ধ করা হয় পবিত্র রমজান মাসে।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা)ইরশাদ করেছেন- যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।-সহীহ বুখারী, হা :১৮৯৮

রমজান মাস মূলত মুসলিমদের জন্য আনন্দের একটি মাস। এই মাসে মুমিনগণ আনন্দ করে থাকে। আর আনন্দ করার কারণ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন- বল, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়। সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক। তারা যা সঞ্চয় করে এটা তার চেয়ে উত্তম। সূরা ইউনুস : ৫৮

এই মাস মুমিনদের জন্য সঞ্চয় করার মাস। এই মাসে সঞ্চয় করতে হবে বাকী মাসগুলো পরিচালনা করার। কৃষক যেমন ধানের সিজনে ধান উৎপাদন করে বাকী মাসগুলো পরিচালনা করার পাথেয় জমা রাখে, ঠিক রমজান মাসও মুসলমানদের সেই পাথেয় অর্জন করার মাস। আর এই পাথেয় অর্জন করা মাসে জীবিত থাকার যে আনন্দ, মুমিনরা সেই আনন্দ পালন এবং আমলের মাধ্যমে নিজের প্রবৃত্তিকে পরিষ্কার করে বাকী বারো মাস ইসলাম মোতাবেক চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

রমজান পাপ থেকে ক্ষমা লাভের মাস। যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপসমূহ ক্ষমা করানো থেকে বঞ্চিত হলো আল্লাহর রাসূল তাকে ধিক্কার দিয়েছেন। রাসুল (সা) বলেছেন :ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করা হয়নি। (তিরমিজি)

সত্যিই সে প্রকৃত পক্ষে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত যে এ মাসেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল। অতএব আল্লাহর রহমতের আশায় আমাদেরকে যথাযথভাবে রমজান মাসকে অতিবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four − three =

আরও পড়ুন