রাঙ্গামাটি শহরে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায় বেপরোয়া জুয়েল

fec-image

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর দাবি করলেও টেনে ধরা যাচ্ছে না মাদকের ক্রেতা বিক্রেতার লাগাম। প্রতিনিয়তই নানা উপায়ে কৌশল পাল্টে মাদক আসছে রাঙ্গামাটি শহরে। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

তারা বলছেন, রাঙ্গামাটির প্রভাবশালী ইয়াবা কারবারিরা শহরের স্থানীয় বেশ কিছু অপরাধ জগতের উশৃঙ্খল যুবকদের সাথে আঁতাত করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীরা পর্দার আড়ালে থাকায় মাদক প্রবেশের পথগুলোয় কঠোর নজরদারির অভাবে মাদক আসা বন্ধ করা যায়নি। এ ছাড়াও পুলিশের কতিপয় লোকের সঙ্গে যোগসাজশ করেও মাদক আসছে, আবার তারা নিজেরাও মাদক ব্যবসা করছেন বলে বিভিন্ন এলাকার লোকজন অভিযোগ করছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অনেক আগ থেকে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকার বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী বেলালের ছেলে বখাটে জুয়েল মাদক ইয়াবায় আসক্তসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করে আসছে। বেশ কয়েক বার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করলেও অদৃশ্য ক্ষমতা ও টাকার বিনিময়ে রক্ষা পেয়ে যায় আইনের হাত থেকে। পরে বেপরোয়া ও ভয়ঙ্কর হয়ে রূপ নেয় এ যুবক।

এমনকি এলাকার নারী-শিশুদের বিভিন্নভাবে ইভটিজিং করে বলে অভিযোগ করছে। পুলিশও তার সোর্স হিসেবে কাজ করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছে। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করার পর বিভিন্ন প্রলোভন এবং ভালো সেজে ইভটিজিং করছে, কু-প্রস্তাব দিচ্ছে এবং কৌশলে ছবি তুলে তা দিয়ে ফেইক আইডি করে নানা ভাবে হেনস্তা করছে।

ইতোমধ্যে পাহাড়ি বাঙ্গালী বহু মেয়েকে এভাবে বিপদে ফেলে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।। থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ উল্টো টাকা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে কোন ভুমিকা পালন করছেনা বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। সে আসামবস্তী এলাকায় পাহাড়ি বেশ কয়টি মেয়েকেও ফাঁদে ফেলে ইভটিজিংসহ শাররীকভাবে হেনস্তা করে আসছে। আসামবস্তী এলাকার অনেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন সন্ধ্যার পর তার সাঙ্গাপাঙ্গোদের নিয়ে ব্রীজ এলাকা, নারিকেল বাগান এলাকায় নানা অপকর্ম করছে। এছাড়া তার অপকর্মে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করছে স্থানীয় কিছু সিএনজি চালকসহ তার অনুসারী কিছু যুবককেও।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করে বলেন, গত রবিবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল তবলছড়ি বাজার থেকে একটি মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে আসামবস্তির নারিকেল বাগানে নিয়ে পরে সেখানে মেয়েটিকে শারীরিক নির্যাতনসহ বেদম মারধর ও হত্যার চেষ্টা করে মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল। পরে ঐ মেয়েটি আত্মচিৎকার করলে এই এলাকার বাসিন্দা মোঃ হারুন ও সাদ্দাম নামের দুই যুবক এসে মেয়েটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ সময় জুয়েল হারুনকেও মারধর করে। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে জুয়েল ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। আসামবস্তির নারিকেল বাগান খুব নির্জণ জায়গা হওয়ায় সন্ধ্যা হলেই এখানে মাদক, জুয়াসহ অসামাজিক কার্যকলাপ চলতে দেখা যায়। এমনকি পুলিশের যোগসাজশে মাদক বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনার পর মেয়ের পিতা মিলটন বড়ুয়া অভিযুক্ত জুয়েলের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, বখাটে ও সন্ত্রাসী জুয়েল প্রায় সময় তাঁর মেয়েকে হুমকি দিত এবং বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করত। এমনকি তার বাবার উপর হামলা ও ভাইকে অপহরণ করবে বলে হুমকি দিত। এ সব বিষয়ে মেয়েসহ পুলিশের কাছে কয়েক বার অভিযোগ করার পরও পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এদিকে সচেতন মহল বলছেন, নারিকেল বাগান একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে কোন পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় সন্ধ্যা নামলেই বখাটে যুবকদের মাদক সেবন এবং মাদক বেচাকেনা হয়। তাদের প্রশ্ন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভিতরে কিভাবে অসামাজিক কার্যকলাপ হয়। নারিকেল বাগানে মাদকাসক্তরা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। তাদের শিকার মেয়েদের হেনস্তা করছে। সে কারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ আসামবস্তীর নারিকেল বাগান এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রণি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী জুয়েলের নামে থানায় কয়েকটি মাদক মামলা রয়েছে। বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনের আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =

আরও পড়ুন