সরানো হচ্ছে পাহাড়ের জরাজীর্ণ ১১৭ সেতু

fec-image

তিন পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার সংযোগ সড়কের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের ১১৭টি বেইলি সেতু সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেতুর জায়গায় নির্মাণ করা হবে ‘পিসি ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ’। এ জন্য প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। নিরাপদ ও টেকসই যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর থেকে এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফীন বলেন, ‘চট্টগ্রাম জোনের আওতাধীন ছয়টি সড়ক বিভাগে সর্বমোট ১১৭টি বেইলি সেতু সরিয়ে নেওয়া হবে। যার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় ৯৭টি সেতু আছে। গত বছর জানুয়ারিতে প্রতিটি সেতু সার্ভে করা হয়েছে। সেখানে আরসিসি গার্ডার ও পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটির আর্থিক মূল্য ও অগ্রগতি বিষয়ে শাহে আরেফীন আরও বলেন, আমরা ব্রিজগুলোর ডিজাইন পেয়ে গেছি। পাহাড়ি জেলার সেতুগুলো সেখানকার উপযোগী ফাউন্ডেশন দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। ডিজাইন পাওয়ার পর প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি সওজের প্ল্যানিং ইউনিটে আছে। সেখান থেকে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়ে একনেকে যাবে। প্রকল্পটি পাস হতে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে আশা করছি। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা।

প্রকল্পটিতে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ২৬টি উপজেলার সঙ্গে সড়ক সংযোগ রক্ষাকারী ৯৭টি ‘বেইলি সেতু’ অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সেতুর বয়স পাঁচ থেকে ৫০ বছর। এগুলো গাড়ির ওজনসহ সর্বোচ্চ ২৮ টন ভার বহনে সক্ষম। স্বাধীনতার পর দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোর সঙ্গে যানবাহন চলাচলের উপযোগী দ্রুত সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার স্বার্থে এসব সেতু নির্মাণ করা হয়।

এদিকে পাহাড়ের সড়ক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে এসে গত ২৪ অক্টোবর সওজের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন জানান, তিন পাহাড়ি জেলায় পুরনো জরাজীর্ণ স্টিলের বেইলি সেতু সরিয়ে সেখানে গার্ডার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা অনেক আগ থেকে করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা সংযোগ সড়কগুলো ডিবিএস ওয়ারিং কোর্স তথা ওভারলেসহ সব সড়ক উন্নয়ন ও মেরামতের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মূলত সে সময়কার যোগাযোগব্যবস্থার দুর্গমতা, প্রতিকূল পরিবেশ পরিস্থিতি, আধুনিক নির্মাণ কৌশল ও ঝুঁকি নিতে সক্ষমতা অর্জন না করা এবং সেতুর উপকরণ পরিবহন ও নির্মাণ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পিসি ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে আগ্রহ দেখায়নি সরকার। এর বিপরীতে বেইলি সেতুর কাঠামো পরিবহন ও সেতু নির্মাণ ছিল দ্রুত ও কার্যকরী। মূলত পাহাড়ি এলাকার বিদ্যমান ছড়াগুলোর পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে এসব এলাকায় কখনই বাঁধ নির্মাণের চিন্তা করা যায়নি। যে কারণে বেইলি সেতুই ছিল তাৎক্ষণিক সমাধান।

আশির দশকে এসব সেতু নির্মাণ হলেও নব্বই ও দুই হাজারের দশকে এসে অনেকগুলো সেতুর ফাউন্ডেশন (ভিত্তি) পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র। সেখানে কনক্রিটের পাকা ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীতেও এসব বেইলি সেতুর জায়গায় স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর এসব পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারেও গুনতে হচ্ছে সরকারি বিপুল অর্থ।

রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, এসব বেইলি সেতু সাময়িকভাবে স্থাপন করা হয়েছিল প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে। সেতু ভাঙলেই অন্যত্র থেকে পুরনো সেতুর অংশবিশেষ এনে জোড়াতালি দিয়ে যোগাযোগ ঠিক রাখা হয়। ফলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। নিরাপদ ও টেকসই যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থায়ী গার্ডার সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: আমাদের সময়

 

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পাহাড়, বেইলি সেতু, রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 − three =

আরও পড়ুন