সিল হচ্ছে না রোহিঙ্গা ক্যাম্প, নষ্ট সিসি ক্যামেরা মেরামতের নির্দেশ

fec-image

নির্বাচনকালীন সময়ে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে অপরাধ কার্যক্রম সংঘটন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও মনে করে সংস্থাটি। তাই ক্যাম্প সিল না করে নিরাপত্তা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে তারা।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনটি গত ২২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে ক্যাম্প এলাকায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা সিসি ক্যামেরা মেরামত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে।

ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা অবৈধ অস্ত্র কিংবা বিভিন্ন গ্রুপকে ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন সময়ে স্বার্থান্বেষী মহল কক্সবাজার বা দেশের অন্যান্য স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব অবৈধ ভোটার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গারা নির্বাচন সম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে (মিছিল, মিটিং, গণসংযোগ ইত্যাদি) যোগ দিতে পারে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ বন্ধে ক্যাম্প সিল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিশালতা এবং এর অবকাঠামো বিশেষ করে সীমানা প্রাচীর ও সিসি ক্যামেরার অকার্যকারিতার কারণে সিল করা বাস্তব সম্মত নয়।

গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কোনও ধরণের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বার্তা দিতে হবে। এ ধরণের কোনও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তা নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচিত হবে বলে সব রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করতে হবে।

সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশেপাশের এলাকায় নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকে ক্যাম্পগুলোর নিকটবর্তী নির্বাচন কেন্দ্রের পথে বিভিন্ন স্থানে চেক পোষ্ট স্থাপন করতে হবে। ক্যাম্পের বাইরে আশেপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের আটকের উদ্যোগ নিতে হবে।

এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পদায়িত ক্যাম্প ইনচার্জদের (সিআইসি) নির্বাচনকালীন ক্যাম্পের বাইরে কোনও ডিউটিতে নিয়োগ না করা এবং নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত তিনটি এপিবিএন ব্যাটালিয়নের (৮, ১৪ ও ১৬) কোনও সদস্যকে নির্বাচনকালীন ক্যাম্পের বাইরে দায়িত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

গত ৬ জানুয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত ‘সিল’ করে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের চলাচলে অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বর্ডারকে সিল করে দিতে হবে।”

এরপর গত ৮ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার ঠেকানো। রোহিঙ্গাদের যেন কেউ কোনোভাবেই আসন্ন নির্বাচনে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এছাড়া ভোটের আগে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে আরও তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ওই সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সিল করার কথা উঠলেও পুরোপুরি বন্ধ না করে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতকারী রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নজরদারিসহ গোটা এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভোটের কাজে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উপ-ক্যাম্পগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারদের পরিবর্তন না করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন