১৬দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের স্মারকলিপি

fec-image

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে” মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী‘কে স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি চেয়ারম্যান ইঞ্জি: আলকাছ আল মামুন  ‍ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি শেখ আহাম্মদ রাজু, আবদুল হামিদ রানা, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আলম খান, এডভোকেট সারোয়ার হোসেন, এডভোকেট মাহমুদ খানসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উক্ত দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বক্তারা নিম্নোক্ত দাবি আদায় না হলে হরতাল‘সহ কঠিন কর্মসূচি দিয়ে দাবি আদায়ে বাধ্য করার হুশিঁয়ারীও উচ্চারণ করেন।

১) অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী বাহিনী ইউপিডিএফ ও জেএসএসকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

২) অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ইউপিডিএফ ও জেএসএস এর নেতা প্রসিত খীসা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধাচরণ কারী জেএসএস নেতা সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে বহিষ্কার করে গ্রেফতার পূর্বক নিরস্ত্র, নিরীহ ঘুমন্ত মানুষ খুনের দায়ে চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

৩) সন্তুলারমার সশস্ত্র সংগঠন যেহেতু এখনো অস্ত্র ব্যবহার করে, সরকারের সাথে প্রতারণা করেছে, সেহেতু তাদের সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে তাদের সাথে সংঘটিত চুক্তি বাতিল করা।

৪) গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে আবদুল মালেকের স্ত্রী মোরশেদা বেগমের হত্যাকারীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার ও তাকে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণ দান এবং সোনামিয়ার টিলার ৮১২ পরিবারের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৫) সংবিধান প্রদত্ত সুযোগের সমতা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রধানত বাঙ্গালি সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ১৩টি উপজাতীয় সম্প্রদায়কে সম্প্রদায়ভিত্তিক জনসংখ্যার অনুপাতে সকল ক্ষেত্রে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

৬) পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী বাহিনী সমূহের সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে র‌্যাব এর মাধ্যমে চিরুনী অভিযান পরিচালনা করা।

৭) নিরাপত্তার অজুহাতে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলায় আশ্রয় শিবির সমূহে স্হানান্তরিত গবাদিপশু-মানুষ একসঙ্গে মানবেতর জীবন যাপনকারী আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্ত হিসেবে বাঙ্গালি পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে টাস্কফোর্সের আওতায় স্ব স্ব মালিকানা কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিজস্ব বসত ভিটা ও ভূমিতে ফিরে যাওয়ার সুবন্দোবস্ত করা ।

৮) উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্হায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাঙ্গালী জনবসতি গুলির নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য সকল প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা এবং প্রয়োজনে ভিডিপি সদস্যদের অস্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে পূর্বের ন্যায় তাদের নিয়োজিত করা।

৯) পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল হত্যার বিচারবিভাগীয় তদন্ত্রের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। হত্যার সাথে জড়িত ও চাদাঁবাজি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল সংগঠনের বিচার করতে হবে এবং এই সব সংগঠন দোষী হলে সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিচার করা।

১০। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত করে ভুমি মন্ত্রণালয়ের অধিনে ভূমি জরিপ করে যে, যেখানে বসবাস করে এবং দখলীয় জায়গা দখল বুঝিয়ে দিয়ে তারপর ডিসর্পোট জায়গা চিহ্নিত করার পর ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি করা।

১১।।চাকুরী‘সহ সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসকৃত বাঙ্গালি পরিবারদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাকুরী দিতে হবে। সকল ক্ষেত্রে উপজাতি কোটা থাকায় শুধু মাত্র একটি শ্রেণী সুবিধা পেয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়‘সহ সকল ক্ষেত্রে পার্বত্য কোটা চালু করা।

১২। দীঘিনালার বাবুছাড়ার ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চ পদস্থ যুগ্মসচিব পদমর্যদা সম্পুর্ন একজন সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করতে হবে। কমিটি সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১৩। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ সমূহ, ইউএনডিপি‘সহ স্থানীয় সকল নিয়োগে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালি ও ১৩টি উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়ভিত্তিক জনসংখ্যা নিয়োগের ব্যবস্হা করা।

১৪। পার্বত্য তিন জেলার পর্যটন এলাকা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা‘সহ বিনোদন স্পটগুলি আরও আকর্ষণীয় করে এসব পর্যটন এলাকাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা

১৫। শিক্ষা ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে পার্বত্য তিন জেলার কমপক্ষে আরও ৩টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। নামকরা তিনটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি দেয়া।

১৬। যোগাযোগ উন্নত করতে পাহাড়ারে সকল রাস্তাঘাট, মেরামত সহ ব্রিজ কালভার্ট সকল কাজ সেনাবাহিনীর তত্ববধানে ন্যাস্ত করা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউপিডিএফ, উপজাতীয়, জেএসএস
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + one =

আরও পড়ুন