কড়া হরতাল সত্ত্বেও সন্তু লারমা বান্দরবনেই অবস্থান করছেন

সন্তু লারমা

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্যাপক সংঘর্ষ, ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেলা, কড়া হরতাল সত্ত্বেও সন্তু লারমার বান্দরবান আগমন ঠেকাতে পারলো না জাগো পার্বত্যবাসী। সন্তু লারমার আগমন ঠেকাতেই এই হরতালের আহ্বান করেছিল সংগঠনটি।

বুধবার সকাল থেকেই অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে হতাল শুরু হয় বান্দরবান শহরে। বেলা ১২ টার দিকে কালাঘাটা বড়ুয়ার টেক এলাকায় হরতাল সমর্থক পিকেটারদের হটিয়ে দিয়ে  সড়কের দখল নেয় পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা। তার কিছুক্ষণ পরই কড়া পুলিশী নিরাপত্তা নিয়ে সন্তু লারমা বান্দরবান শহরে প্রবেশ করে স্থানীয় রেস্ট হাউজে বিশ্রাম করে। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সন্তু লারমা বালাঘাটা বাজার হয়ে কালাঘাটা দিয়ে বান্দরবান আগমন করে সরাসরি শুক্রবারের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সম্মেলনস্থল চিম্বুক রোডের ফারুক পাড়া এলাকায় চলে গেছে। হরতাল চলাকালে বালাঘাটা স্বর্ণ মন্দিরের পাশে একটি ব্রিজের ২টি পাটাতন খুলে নেয় হরতাল সমর্থক পিকেটাররা। পরে প্রশাসনের লোকজন পটাতান ২টি মেরামত করে সন্তু লারমার আগমনকে সহজ করে দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুর ১২টার পরে পুলিশ নিরাপত্তায় সন্তু লারমা বান্দরবান শহরে প্রবেশ করে স্থানীয় সার্কিট হউজে অবস্থান করে। বহরের পিছিয়ে পড়া একটি চাঁদের গাড়িকে বাঁধা দেয় জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় জেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ও জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের হরতাল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, রিপন তঞ্চঙ্গা (১৮), বামং মার্মা(২১), উথেয়নু মার্মা,(১৯), পরিমল চাকমা(১৮), জয়নাল (১৯), সামশুল ইসলাম (২৫), পুচাথোয় (৩৮), উচথোয় (৩৮), সুনিল চাকমা (৫০) হ্লাচিং মার্মা (২১) আবিদুর রহমান (৪৫)। গুরুত্তর আহত রকি তঞ্চঙ্গা(১৮) পায়অংপ্রু মার্মা(৪০) ও মংথোয় মার্মা (৫০) কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কের স্বর্ণমন্দির এলাকায় বেইলি ব্রিজের পাতাটন খুলে ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে স্কুল-কলেজ ছাত্রছাত্রীরা।

হরতাল চলাকালে শহরের সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যানবাহন সম্পুর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যায় । ফলে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ জনগণ ও স্কুল কলেজগামীরা। হরতাল চলাকালে অফিস আদালতে উপস্থিতির হার ছিল কম, তবে ব্যাংক, সরকারী ও বেসরকারী অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথারীতি খোলা ছিল। হরতাল চলাকালে হরতাল আহবান কারীরা শহরে মিছিল মিটিং এবং পিকেটিং করেছে। হরতাল চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য বিজিবি এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। শহরে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

জানা গেছে সন্তু লারমা সেখানে তিন দিনের অবস্থানের সময় পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জেলা সম্মেলনে শুক্রবার প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করবেন। সংঘর্ষের সময় এক উপজাতীয় সাংবাদিক মংকিং মারমাকে পিকেটারেরা ধাওয়া করলে সে দৌড়ে বান্দরবান প্রেসক্লাবে ঢুকে পড়ে। এই সময় পিকেটারেরা প্রেসক্লাবে ঢুকেও তার উপর হামলার চেষ্টা চালায়।

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সম্মেলনের স্থল ফারুক পাড়ায় সন্তু লারমার নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন সকল প্রকার ব্যবস্থা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ পিপিএম। হরতাল আহবানকারীদের নেতা আবিদুর রহমান জানান, তাদের পুর্বঘোষিত কর্মসুচীর কোন পরিবর্তন হবে না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন