চকরিয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

fec-image

কক্সবাজার-১চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ জাফর আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা, অপবাদ ও মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সফুর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বাদী সফুর আলম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চকরিয়া-পেকুয়ার সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানহানিকর স্ট্যাটাস দিয়ে আমার নেতা ও দলের ক্ষতি করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, মানহানিকর স্ট্যাটাস দাতা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু একজন সন্ত্রাসী, প্রতারক ও মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এরফান চৌধুরী কর্তৃক দায়েরকৃত একটি প্রতারণা মামলায় একবছর সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও প্রতারণাসহ ডজনাধিক বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা সফুর আলম আরও দাবী করেন, প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে নিরীহ লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছে কথিত যুবলীগ নেতা পল্টু। প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে এলাকার ২২ পরিবারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি-জমা জবর-দখল করতে চেয়েছিল, কিন্তু চকরিয়া- পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলম ওই জমি জবরদখল করতে সহযোগিতা না করায় তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে বাজে স্ট্যাটাস দেয় সে। যার কারণে আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে সংক্ষুব্ধ হয়ে মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। যাহা চকরিয়া থানার মামলা নং ৩৬/৩৬।

এদিকে, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ জাফর আলম সাংবাদিকদের বলেন, মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু একজন প্রতারক, দলে তার কোন পদবী নেই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ও ছবি ব্যবহার করে নিরীহ মানুষের সাথে প্রতারণা করাই হলো তার কাজ। তার অনৈতিক কাজে সহযোগিতা না করায় সে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেয়।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার সাংসদকে জড়িয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার প্রতিবাদে চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। একইদিন চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে জরুরী বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুকে উপজেলা যুবলীগ থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

চকরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ উচমান গণি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংসদ জাফর আলমকে নিয়ে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সফুর আলম সংক্ষুব্ধ হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। এজাহারটি শুক্রবার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এ মামলায় জনৈক মোজাফ্ফর হোসেন পল্টুকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন