রাজস্থলীতে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত


কদিন আগেই ছিল শরতের মতো নীলাকাশ, সাদা মেঘের ভেলা। আর আজ কদিন থেকে বর্ষা তার রীতি মেনে অঝরে ঝরে চলেছে। প্রকৃতি ভেসে যাচ্ছে টানা বৃষ্টির প্রতাপে। এই দীর্ঘ বৃষ্টি কারো জন্য রোমাঞ্চকর, মন মাতানো পরিবেশ, আবার কারো জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ। অনেক দিনমজুর ভুখা লোকদের কষ্টের শেষ নেই।
গত কয়েক দিনের সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে নেমেছে প্রবল বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন বর্ষণমুখরতায় মলিন হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের মুখ।
গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়ার ডাকবাংলা, বাজার এলাকায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বাঙ্গালহালিয়ার বাজারের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা, যান ও মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রাজস্থলী সড়কের সেনাবাহিনী ক্যাম্প সংলগ্ন জায়গায় জমেছে পায়ের গোড়ালি থেকে হাঁটুপানি। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে তেমন বের
হচ্ছেন না সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
দিন আনে দিন খায়- এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দু-তিন দিন ধরে ঝরঝর বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরছেই। অতিবৃষ্টির কারণে কাজে যেতে মহা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।
বৃষ্টিতে ভিজে সুবুডুবু বাঙ্গালহালিয়া সড়কে অটোরিকশাচালক রতন বলেন, বৃষ্টির কারণে গত তিন দিন ধরে আয়-রোজগার একদম কম। তিনি বলেন, মঙ্গলবার ও বুধবার রাজস্থলীর দুটি হাটবাজার মানুষ বাজার-সদাই করতে বের হয়। কিন্তু এই হাট-বাজারে বের হচ্ছে না মানুষ মুষলধারে বৃষ্টি হওয়াতে।
চাইমুচিং মারমা নামে আরও এক রিকশাচালক বলেন, দিন আনি দিন খাই। বাজারে গেলেই সবকিছুর দাম সাধ্যের বাইরে। এর মধ্যে এরকম আবহাওয়ায় বর্তমানে চলা বড় দায়।
উপজেলার ঝালমুরি ও চানাচুর বিক্রেতা এক ব্যক্তি বলেন, টানা বৃষ্টির জন্য আমার মতো খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আজ রাজস্থলী বাজার হাটের দিন; মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের জিনিস কেনার জন্য বাজারে আসে। সারা সপ্তাহের রুজি বাজারে করা যায়।
কিন্তু এই বুধবারে হাটের দিন আমাদের কপালে হাত। বাঙ্গালহালিয়া বাজারের ফুটপাতে তরকারি বিক্রেতা বলেন, সকাল বিকাল তরকারি বিক্রি করি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে মানুষ বের হচ্ছে না। তবে যারা বের হয়েছে জীবিকার তাগিদে।
রাজস্থলী বাজার এলাকার চা দোকানি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে সারাদিন ধরে ক্রেতা একদম কম। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ কাপ চা বিক্রি করি। আর আজকে ৫০ কাপ চা বিক্রি করতে দম বের হয়ে যাচ্ছে।
একজন সরকারি চাকুরিজীবী বলেন, বৃষ্টির জন্য অফিসের ছুটি শেষে ঘরে বসে কাটাতে হচ্ছে। জানালা দিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পথঘাটে জনশূণ্য।
অন্যদিকে আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, রবিবার (০৬ জুলাই) সারা দিন দুপুরে থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। কারণ সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ এবং এখনো মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার প্রভাবে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে কিছুটা কমে আসতে পারে বৃষ্টি।
এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, প্রবল বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপন্ন, ফলে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যে কোনো মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছি। যাতে প্রকৃতির কারণে কোনো প্রকার বিপদগ্রস্ত হতে না হয়।

















