সেন্টমার্টিনে ট্রলারে হতাহতের ঘটনায় ৯ দালাল আটক ৪ জনের মৃতদেহসহ ২৯০ জনকে হস্তান্তর
রামু প্রতিনিধি::
সেন্টমার্টিনের পূর্ব-দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহতের লাশসহ আহত ও অসুস্থ ২৯০ জনকে শুক্রবার তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ দালালকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ওই দালালদের আটক করা হয়। এর মধ্যে টেকনাফ থানা পুলিশ ৫ জন এবং উখিয়া থানা পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। বৃহস্পতিবার কক্সবাজার শহর থেকে আটক করা হয় ২ দালালকে। এ নিয়ে ৯ দালালকে আটক করা হলো। একই সঙ্গে ঘটনার সময় ট্রলার থেকে আটক করা হয় ৩ বিদেশিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ওসি মোক্তার হোসেন।
আটকরা হলেন, ট্রলারে থাইল্যন্ডের নাগরিক চেং ও জাহাজের ক্রু মং এবং দালাল মিয়ানমার নাগরিক আবদুল গফুর, একই ঘটনায় জড়িত নরসিংদীর শিবপুর থেকে কামাল সরকার , সাতকানিয়া থেকে কাঞ্চনাপাল পাড়ার মৃত ইন্দু ভূষণ পালের ছেলে প্রকাশ পাল (৪৮) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৭), উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের মৃত. জাফর আলমের ছেলে মাহবুবুল আলম (চকিদার), সোনারপাড়া এলাকার মৃত আলী হোছনের ছেলে শামশুল আলম ও মরিচ্যা এলাকার আলী চাঁনের ছেলে জালাল উদ্দিন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, যশোরের ২ জন, বগুড়ার একজন এবং সিরাজগঞ্জ জেলার একজনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অপর জনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। অপরদিকে, এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া লোকজন টেকনাফ কলেজ ক্যাম্পাসে রাখা হয়েছে। ওখান থেকে অভিভাবকদের বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে আহত ৩১ জন এখনো চিকিৎসাধীন বিভিন্ন হাসপাতালে।
টেকনাফ থানার ওসি মোকতার হোসেন জানিয়েছেন, মানবপাচার, হত্যা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। ৮৯ জন, হত্যা মামলায় আটক ৩ বিদেশি এবং ২০ জন অজ্ঞাত, অনুপ্রবেশ মামলায় ৩ বিদেশিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ জুন বুধবার কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ সেন্টমার্টিনের অদুরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার পানিসীমায় মানবপাচারকারী ও ক্রুদের গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৃথক ৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



















