ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজেও ছড়াচ্ছে অপতথ্য

fec-image

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পুরাতন ভিডিওর সাথে ভিন্ন অডিও যুক্ত করে নতুন করে ছড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা। ভাইরাল হওয়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে; সচেতনভাবেই চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সবকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করা হচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে ভুয়া ফটো কার্ডের দৌরাত্ম্য। এমন পরিস্থিতিতে ফ্যাক্টচেকে ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এসব ভুয়া বা জাল জালিয়াতির ঘটনা। এসব অপতথ্য ছড়ানোতে থেমে নেই জয় কিংবা তসলিমা নাসরিনের মতো ব্যক্তিদের ভেরিফায়েড পেজও।

এই যেমন সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবী করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট, কেএনএফ বান্দরবানের রুমা এলাকায় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। ভিডিওটিতে সামরিক পোশাক পরা বেশ কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে দেখা যায়। তবে সত্যিটা সামনে আনে রিউমর স্ক্যানার টিম।

তারা জানায়, আলোচিত ভিডিওটি বান্দরবানের রুমায় কেএনএফ সদস্যদের অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার দৃশ্য নয়। বরং, এটি ছিলো ফিলিপাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট (এমআইএলএফ)-এর একটি ভিডিও। বিস্ময়ের বিষয় হলো- এই ভিডিওটি জনরোষে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক থেকে এই ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন।

একইভাবে ব্রেকিং নিউজ-এর নামে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ছাড়ানো ‘খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসায় মিললো ৭ বস্তা ও সিন্দুক ভর্তি টাকা’ ভিডিওগুলোও লাখের কাছাকাছি ভিউ হয়। কিন্তু ভিডিওগুলো জাল হিসেবে সনাক্ত করে রিউমার স্ক্যানার। আসলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গ্রেফতারের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে তৈরি করা হয় জাল ভিডিওগুলো।

অনুরূপভাবে সাংবাদিক মাসুদ কামাল গ্রেফতার হতে পারেন দাবি করে একটি ভিডিও ছড়ানো হয় ইন্টারনেটে। সেই ভিডিওতে মাসুদ কামালকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলছি। আমি হয়তো গ্রেপ্তার হতে পারি। তবে ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেল, গ্রেফতারের আশঙ্কা জানিয়ে মাসুদ কামাল কোনো বক্তব্য দেননি এবং তা মাসুদ কামাল নিজেই তার ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’ ও তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিশ্চিত করেছেন। পরে জানা গেলো, মাসুদ কামালের ভিডিও বক্তব্য প্রযুক্তি সহায়তায় কাটছাঁট করে মিথ্যা দাবিতে ইন্টারনেটে ছড়ানো হয়েছে।

ভিডিওর পাশাপাশি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আরটিভির ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম ছিলো- “থাইল্যান্ডে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে ২৫ লক্ষ টাকা মুচলেকা দিয়ে মুক্তি অভিনেত্রী বাঁধনের”। তবে ফ্যাক্টচেক করে দেখা গেল এই শিরোনামে মূলধারার গণমাধ্যম আরটিভি কোনো প্রতিবেদন বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, আরটিভির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডের ডিজাইন প্রযুক্তির সহায়তায় নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, রাজধানীর খিলগাঁও থানা থেকে গণ অভ্যুত্থানের এক বছর পর বিপুল সংখ্যক লুট করা অস্ত্র একটি মসজিদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দাবিতে ফেসবুকে কিছু ছবি প্রচার করা হচ্ছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অস্ত্রগুলো সাম্প্রতিক সময়ের নয়, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট খিলগাঁওয়ের স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ কাজে সহযোগিতা করে খিলগাঁও ঈমানবাগ জামে মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিরা। অথচ সেই ছবিগুলো শেয়ার করে ধর্মী জিঘাংসা ছড়ানো হয় বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট থেকে।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন