দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাঙামাটি আসনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা জাপার, নীরব পিসিজেএসএস, নির্বাচনে আগ্রহী ইউপিডিএফ

fec-image

আর মাত্র কয়েকমাস বাকী, সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন। যে কারণে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক গেম চেঞ্জার হওয়ার জন্য ছোট ছোট দলগুলো জোট মহাজোটে যোগ দিচ্ছে। তবে এত বছর ধরে সাবেক সামরিক শাসক প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর হাতে গড়া সংগঠন জাতীয় পার্টি (জাপা-এরশাদ) নামে বিরোধী দল হলেও বর্তমানে সরকারের সমর্থিত দল হিসেবে রাজনীতিবিদদের কাছে সুপরিচিতি। সঙ্গতকারণে দলটির প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। এছাড়াও দলটিতে নেতৃত্ব এবং গ্রুপিং দ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরা নানা ভাগে বিভক্ত। যে কারণে দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতেও জাপার নেতৃবৃন্দকে এখনো মাঠে সরব হতে দেখা যায়নি। তারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দিলে তারা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারে নামবেন।

অতীতেও এ জেলায় তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি তেমন একটা ছিল না। তবে কৌশলগত কারণে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর ছোট ভাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মুহাম্মদ কাদের রাঙামাটি ২৯৯ আসন থেকে অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, যিনি স্থানীয় আঞ্চলিক বাঙালি সংগঠনের সাথেও জড়িত তার উপর আস্থা রেখে লাঙ্গল প্রতীকে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন করার অনুমতি দেন। কিন্তু তিনি ভোটের রাজনীতিতে কোন প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। অপরদিকে দলটির এক পক্ষের সভাপতি হারুন মাতব্বর তখন প্রচার করেছেন যে, তার দলের পক্ষ থেকে কাউকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি। যে কারণে সেসময় দলটি দু’টি পৃথক ভাগে বিভক্ত ছিলো। এক পক্ষ তৎকালীন এমপি প্রার্থী পারভেজ তালুকদারের নেতৃত্বে ছিল, অপর অংশটি হারুন মাতব্বরের গ্রুপে সক্রিয় ছিলো। এবার অবশ্য এ আসনে দলটির কোনো পক্ষের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

জাতীয় পার্টি রাঙামাটি জেলার তিনবারের সভাপতি হারুন মাতব্বর পার্বত্যনিউজকে বলেন, নির্বাচনের অনেক সময় রয়েছে। কেন্দ্র থেকে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। আমরা কি মহাজোট থেকে নির্বাচন করবো নাকি এককভাবে করবো সেটা নির্ভর করছে কেন্দ্রের উপর। তবে তিনি রাঙামাটি ২৯৯ আসনে জাতীয় পার্টির হয়ে এমপি নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারকে সমর্থন জানিয়েছিল প্রসিত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আরেক আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সে সময়ে জেএসএস-ইউপিডিএফের ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ থাকায় রাঙামাটি আসনে একত্রে ভোট করেছিল দুটি আঞ্চলিক দল। তবে বর্তমানে ফের জেএসএস-ইউপিডিএফের রাজনৈতিক বৈরিতা চলছে। যে কারণে এবারের নির্বাচনে একক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তবে ইউপিডিএফ’র বিভিন্ন সূত্র থেকে জানানো হচ্ছে, রাজনৈতিক দল হিসাবে তারা বরাবরই গণতন্ত্র পন্থি এবং নির্বাচনমুখী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রসঙ্গে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ইউপিডিএফ বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয় তাহলে ইউপিডিএফ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কাকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দলটির সূত্র জানায়।

তবে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কোনো নেতার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। জেএসএস সমর্থিত একবারের এমপি ঊষাতন তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া যায়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সংস্কার (এমএন লারমা) গ্রুপেরও।

এদিকে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা ও ইসলামী আন্দোলনের জসিম উদ্দিন প্রার্থী হয়েছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে এসব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা নেই। আলোচনা নেই বাঙালিভিত্তিক সংগঠনের প্রার্থী নিয়েও।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন