নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে একজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় মিজানুর রহমান (২৭) নামের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার দিন ২৬ জুন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত মিজানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও ২৭ জুন সকালে তিনি মারা যান। মিজানুর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের লেবুতলী গ্রামের মৃত আবদুশশুক্কুর ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানান নাইক্ষংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো মাশরুরুল হক।

নিহত মিজানুরের ভাই মোহাম্মদ আলম সাংবাদিকদের জানান, নিহত মিজান ২ সন্তানের পিতা। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে মারা যান শুক্রবার (২৭ জুন) ভোরে। আগের দিন (২৬ জুন) তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আঘাত করে লেবুতলীর আলী আকবর বাহিনীর সেকেন্ট ইন-কমান্ড আবদুর রহিম ও তার দল। ঘটনার দিন বিকেল ৪টায় হঠাৎ পেছন থেকে এসে আবদুর রহিম মিজানকে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। এর পরপর লাঠি দিয়ে তাকে পেঠাতে থাকে। এ সময় সন্ত্রাসী রহিম তার ভাই মিজানকে বলেছে, সে নাকি তাদের ৮টি অস্ত্র পুলিশকে দেখেয়ে দিয়েছে। তাই তাকে জীবিত থাকতে দেবে না। মিজানের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা এলাকা ত্যাগ করে।

এলাকাবাসীর সহায়তায় মিজানকে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সামান্য জ্ঞান ফিরলে স্বজন ও অন্যান্যদের কাছে অভিযুক্ত খুনি আবদুর রহিম তার বাহিনির লোকজন তাকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে এ অবস্থা করেছে বলে জানিয়ে দেন এবং ফের চোখ বন্ধ করে অজ্ঞান হয়ে যান। এমতাবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে শুক্রবার  সেখানে মারা যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মূলত যে মিজান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির সোর্স হিসেবে কাজ করতো এবং গত সপ্তাহে ৮টি বন্দুক উদ্ধারে সহায়তা করেছে সে আনসার-ভিডিপির সদস্য। ওই মিজান নিহত মিজান নয়।

স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ঘটনাস্থল একটি লেবুতলী সন্ত্রাসী জোন এবং মিয়ানমার থেকে আসা অস্ত্র এবং মাদকের চালানের টার্নিং পয়েন্ট। এখানে বাংলাদেশী কয়েকটি বাহিনীর আস্তানা আছে। এরমধ্যে ২টি আস্তানায় হানা দিয়ে গত সপ্তাহে ৩টি পিস্তল ও ৫টি বন্দুক উদ্ধার করেছে বিজিবি ও পুলিশ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষংছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন