বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গারা; দুই শিশুসহ নিহত ৩

fec-image

প্রবল বৃষ্টি এবং ঝড়ো বাতাসে গত পাঁচদিনে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়স্থল হারিয়েছেন। মারা গেছে দুই রোহিঙ্গা শিশুসহ তিনজন। জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর স্বোচ্ছাসেবীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করতে গিয়ে এমন চিত্র দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ক্ষতিগ্রস্থদের আবাসস্থলগুলো মেরামত এবং আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে জরুরি আশ্রয়স্থলে নিতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন।

নিহত দুই শিশু হলেন-উখিয়া হাকিমপাড়া ক্যাম্পের মোহাম্মদ হামিম (৮) ও মধুর ছড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্ররাহীম (৭)। এর আগেও ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসে মোস্তফা খাতুন (৫০) নামে আরেক রোহিঙ্গা নারী নিহত হন।

আইওএম-এর মুখপাত্র জর্জ ম্যাকলয়েড বলেছেন, বর্ষাকালের মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে গত ৭২ ঘণ্টায় আমরা দুই হাজার মানুষকে সহায়তা করেছি। আমাদের সদস্যরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০১৮ সালের ক্ষয়ক্ষতির থেকেও বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জর্জ ম্যাকলয়েড।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ থেকে ৫ জুলাই তিনদিনে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১০ মিলিমিটার। আরেকটি বড় ক্যাম্প ‘ক্যাম্প ১৬ তে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫৩০ মিলিমিটার। ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপিসহ আইওএম-এর অংশীদাররা সবাই বর্ষাকাল এবং সাইক্লোনের সময়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

আইওএম এর ভাষ্য মতে, ২ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি ১ হাজার ১৮৬টি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি ২১৬টি, ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি ১ হাজার ৮৪০টি, বন্যায় বা অন্যান্যভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৫ হাজার ৫৩৪ জন। ভূমিধস হয়েছে ৩৯১টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইওএম এর ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে- আরও ১৩ টি ভূমিধস হয়েছে, নয়বার ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে এবং দুটি বন্যায় দুই হাজার ২শ ব্যক্তি এবং ৪৩২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে এদিকে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া, মিয়ানমার, রাখাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + 13 =

আরও পড়ুন