অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা


প্রত্যাবাসন বিলম্ব হওয়ায় দিন দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গারা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের কর্মকাণ্ড বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভুয়া পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যাবাসনের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্ররোচিত করছে। রোহিঙ্গারা তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে হতাশ হয়ে পড়ছে, যার একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এটি তাদের অনেককে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে প্ররোচিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কারণে গভীর বনভূমি কক্সবাজারের উখিয়ার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা গাছ কাটার মাধ্যমে বনভূমি হ্রাস এবং এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হত্যা, মাদকপাচার, ডাকাতি, জমি দখল, মানবপাচারসহ দিন দিন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। এতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে উখিয়া ও টেকনাফবাসী। সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিলেও রোহিঙ্গারা তার মূল্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নতুন ও পুরনো মিলে অন্তত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে টেকনাফ ও উখিয়ায়। দিন যত যাচ্ছে ততই স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের জীবনযাত্রা এবং জীবিকায় রোহিঙ্গাদের চাপ অনুভূত করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের কারণে তাদের বেকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্বল্প মজুরিতে কাজ করায় রোহিঙ্গাদের বেশি কাজে নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, অনুপ্রবেশের সাথে সাথেই তারা খুন, ডাকাতি, ইয়াবা ও মানবপাচার, হামলা এবং বনভূমি দখলসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া রোহিঙ্গা বসতিতেই নিজেদের মধ্যে মারামারিসহ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত করা হলেও তাদের সালিশের কাজও করতে হচ্ছে। এরইমধ্যে রোহিঙ্গাদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ সদস্যরাও।
ছুরিকাঘাত করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়েছে স্থানীয়দের। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নজরে রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রোহিঙ্গাদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কারণে এরইমধ্যে উখিয়া-টেকনাফে উজাড় হয়েছে বনভূমি, ধ্বংস হয়েছে বন্যহাতির আবাস ও বিচরণক্ষেত্র। এছাড়া লাখ লাখ মানুষের বর্জ্য বিষিয়ে তুলছে এলাকার পরিবেশ।

















