উত্তাপহীন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউপি নির্বাচন শেষ মূহুর্তে জমে উঠছে

fec-image

আর মাত্র পাঁচদিন পর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৩ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। দুই ইউনিয়নে বিএনপি বিহীন নৌকার সাথে বিদ্রোহী, অন্যটিতে নৌকার সাথে লড়ছে স্বতন্ত্র খোলস নিয়ে বিএনপি নেতা। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তিনটি ইউপিতে উত্তাপহীন প্রচার-প্রচারণা চললেও শেষ মূহুর্তে এসে জমে উঠেছে নির্বাচন। প্রার্থীরা দিন-রাত ভোট চেয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন এলাকা। এই পর্যায়ে কৌশল-অপকৌশলের রাজনীতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে প্রশাসন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন বলে রির্টানিং অফিস সূত্র জানিয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, নারী সদস্য পদে ১১জন ও পুরুষ সদস্য পদে ২৯ জন। সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ২ জন চেয়ারম্যান, নারী সদস্য পদে ৭ জন ও পুরুষ সদস্য পদে ২৫ জন এবং ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, নারী সদস্য পদে ১০ জন ও পুরুষ সদস্য পদে ৩৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। ইতোপূর্বে সদর ইউনিয়নের ১ ও ৭নম্বর এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডে পুরুষ মেম্বার পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছে ৩ জন। এছাড়াও দোছড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে শুধুমাত্র মেম্বার পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ১নং নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি তসলিম ইকবাল চৌধুরী। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবছার ইমন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম। বিরামহীন প্রচারণায় তৎপর রয়েছে দলীয় প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা। বসে নেই স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরাও। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থণা করছেন। ভোটাররা প্রার্থীদের সামনে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। নির্বাচিত হলে প্রার্থীরা এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক নৌকা, পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর এর প্রতিক নৌকা। আর তাই তৃণমূলের সাধারণ মানুষ উন্নয়নের জন্য নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। বিজয়ী হলে সকল দল ও মতের মানুষের মাধ্যমে এই ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রূপ দিবো।

আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আবছার বলেন- গ্রামেগঞ্জে গণসংযোগকালে ভোটারদের কাছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনা আর সাড়া পাচ্ছি। তারমতে, দলীয় মার্কা কোন বিষয় না। ব্যক্তি হিসেবে যিনি জনগণের মন জয় করতে পারবেন ভোটাররা তাকেই ভোট দিবেন।

এদিকে ঘুমধুম ইউনিয়নে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ। তিনি পার্বত্যনিউজকে বলেন- ঘুমধুমে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। আগামীতে আরো বেশি উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর সেই উন্নয়ন ও অগ্রতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জনগণ আবারো নৌকাকে বিজয়ী করবেন বলে তিনি মনে করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদ আহমদ বলেন- অবাধ ও প্রভাব মুক্ত নির্বাচন হলে বিজয়ের ব্যপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। মানুষ যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ তৈরীর জন্য তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চান।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যানিং মার্মা। বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বাহান মার্মা। আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে অন্য দুটি ইউনিয়নের চেয়ে এখানে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী এ্যানিং মার্মা অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। তিনি প্রচারণায় যেখানেই যাচ্ছেন মানুষের উপচেপড়া উপস্থিত হচ্ছে। ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সাড়া না পেয়ে নির্বাচনী একটি ক্যাম্প গুছিয়ে নিয়েছে বাহান মার্মা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রার্থীরা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরণের ভোটের গান ও স্লোগানে হাট-বাজার সহ গ্রাম, গঞ্জের, আনাচে, কানাচে এবং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেদের ভোটের পাল্লা ভারী করতে কাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven − six =

আরও পড়ুন