করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় চার পর্যটক দু‘মাসেরও বেশি সময়ে সেন্টমার্টিনে

fec-image

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ভ্রমণে আসা চার পর্যটক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় প্রায় দুই মাস ধরে সেন্টমার্টিনে অবকাশ যাপন করছে। পরিবার পরিজন ও ব্যবাসায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে এমন উদ্যোগ তাদের।

লেখালেখি, বই পড়ে, গান শুনে ও সমুদ্র উপভোগ করে সময় পার করছেন এ চার পর্যটক। পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতা বেশ ভালো রয়েছেন তারা। তবে আপন নীড়ে কখন ফিরবেন এখনো কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি তারা। দ্রুত করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে ফিরবেন বলে আশাবাদী এ চার পর্যটকের।

সংশ্লিষ্টদের সাথে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন উপভোগ করার জন্য গত ১৫ মার্চ পৌঁছে ৭ জনের একটি দল। করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে পর্যায়ক্রমে লকডাউন ঘোষণা করা হলে সেন্টমার্টিন থেকে সর্বশেষ জাহাজ ফিরে ১৯ মার্চ।

এ সাত ভ্রমণ পিপাসুর মধ্যে এনজামুল, আরশাদ হোসেন ও সালেহ রেজা আরিফ সেচ্ছায় সেন্টমার্টিনে থেকে যান। তাদের মধ্যে আনজামুল ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করে, আশরাফুল ব্যবসায়ী, সালেহ রেজা আরিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।

একটি ভ্রমণ সংগঠনের সদস্য হিসেবে তাদের পরিচায় ও বন্ধুত্ব।
একদিন, দুই দিন করে এইভাবে আড়াই মাসের বেশি সময় এখন তারা সেন্টমার্টিনে এক ধরণের কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। পর্যটক না থাকায় বিনে পয়সা রিসোর্টের একটি কক্ষে থাকছেন তারা। হোটেল কর্তৃপক্ষ কিচেনও খুলে দেন এ তিন পর্যটকদের। পর্যটক না থাকায় রিসোর্টের দুজন কর্মীর সঙ্গে এক চুলায় খাবার রান্না করে খাচ্ছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র নিশাত কায়সার ১৮ মার্চ আসেন /যান সেন্টমার্টিনে। দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে নির্জন ও কোয়ারেন্টিনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একদিন দুই দিন করে ৭৬ দিন পার করেন পাশাপাশি টূ্যূরিজম ব্যবসা করা এ ছাত্র। প্রথম প্রথম পরিবার পরিজন চিন্তা করলেও এখন স্বাভাবিক বলে জানান তিনি।

সেন্টমার্টিনে এত দিন থাকার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বরাবরের মতো সেন্টমার্টিন অনেক পর্যটকের স্বপ্নের স্থান। আমার কাছে এটি ভাল লাগার জায়গা। আমি যত জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু এখানের মতো স্বাচ্ছন্দ্য আমি কোথাও পায়নি। এখানের প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে বিমহিত করে। সমুদ্রের গর্জন , জ্যেস্না রাত, মাছ ধরা, কেয়াবন এগুলোর মধ্যে থাকলে যে কারো মন ভাল থাকতে বাধ্য। আমি আমার জায়গা থেকে এখন পৃথিবীর সুখী মানুষগুলোর মধ্যে একজন মনে করছি’।

সব মিলিয়ে এখন অন্যরকম সেন্টমার্টিন ঢেউয়ের গর্জন শুণে ঘুমা এবং ঘুম থেকে উঠার পাশাপাশি, লেখা লেখি বই পড়ে, গানশুনে ও সমুদ্র উপভোগ করে সোনালী দিন পার করছেন এ চার পর্যটক।

দ্বীপবাসীর মিশে যাওয়া স্থানীয়দের মতো মনে করছেন তারা। পরিবার পরিজন থেকে দূরে থাকলেও নিয়মতি যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ ভ্রমণ পিপাসুরা। সেই সাথে দ্বীপের লোকজন সার্বক্ষণিক পর্যটকদের খোঁজ খবর রাখছে।

করোনা পরিস্থিতির মরণ থাবায় দেশের বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপকে বেশ নিরাপদও মনে করে করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবস্থান করার কথা জানিয়েছেন।

ওই ভ্রমণ সংগঠনের তিন পর্যটক জানান, আমরা এখন সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দাদের মতো হয়ে গেছি। স্থানীয়দের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি করছি। এ ছাড়া জীবনের প্রথমে বাইরে ঈদুল ফিতর উদাযাপন করা‘সহ দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় বাইরে কাটান এ চার পর্যটক।

গতকাল থেকে লকডাউন খুলে দেয়া হলে ঢাকার তিন পর্যটক ফেরার চিন্তা ধারাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন শুভ বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষ যেনো তাদের কাছ ভাড়া না নেয় সে ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হাবিব জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে চার পর্যটক প্রায় আড়াই মাস ধরে সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছেন। তাদেরকে নিয়মিত দেখভাল করছেন পাশাপাশি তারা যেনো কোন ধরণে সমস্যা না পড়ে সে ব্যাপারে তাদের নজরে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, করোনাভাইরাস, পর্যটন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + five =

আরও পড়ুন