টেকনাফে পাচারকালে ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, ৪ মানবপাচারকারী আটক


কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যকে আটক করেছে। এসময় সাগরপথে পাচারের প্রাক্কালে শিশুসহ আটজন ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে টেকনাফ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর উক্ত তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, টেকনাফের সাবরাং উপকূলীয় সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারের খবরে গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এসময় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দি ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং চারজন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মোতালেব ওরফে “কালা বদ্দা”-র বসতঘরে মানবপাচারকারীরা বিদেশগামী বেশ কয়েকজনকে আটকে রেখেছে। এই খবরে তাৎক্ষণিকভাবে মানবপাচারকারীদের গ্রেফতারের জন্য ২ বিজিবি একটি বিশেষ অভিযান চালায়। সোমবার (১৭ নভেম্বর) গভীর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের পূর্ব–দক্ষিণ দিকে অবস্থিত পানছড়ি এলাকার পাচারকারীদের সন্দেহজনক বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। এসময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন রাতের আঁধারে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। তবে এসময় ৪ জন মানবপাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তল্লাশি করে ভুক্তভোগী ৬ জন নারী ও ২ জন শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এসময় আটক পাচারকারীরা হলো, সাবরাংয়ের পানছড়ি পাড়ার আফাজ উদ্দিনের মেয়ে আসমা (১৯), আব্দুল মোতালেবের মেয়ে শাবনূর (২০), মৃত আফাজ উদ্দিনের মেয়ে জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, অভিযান চলাকালীন অবস্থায় রাতের আঁধারে সাবরাং পানছড়ি পাড়ার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০) পালিয়ে গেছে। তাকে পলাতক আসামি করে আটক আসামিদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি, সুবিধাজনক কর্মসংস্থান, দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা এবং বিনা অর্থে বিদেশ গমন ও পরবর্তীতে চাকরির বেতনে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দেখিয়ে তাদের প্রলোভন দেখানো হয়। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতারণার জালে ফেলে মাথাপিছু অর্থের বিনিময়ে পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, সম্প্রতি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে পাহাড়ে বিজিবির একের পর এক অভিযানের ফলে সংঘবদ্ধ চক্রটি পাহাড়ের পরিবর্তে লোকালয় দিয়ে বিদেশে গমনেচ্ছুকদের পাচার করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, অপরাধীদের জন্য টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্রের জলসীমা পর্যন্ত এক ইঞ্চি জায়গাও নিরাপদ নয়। মানবতা বিরোধী এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে বিজিবি ধারাবাহিক ও কঠোর নজরদারি এবং সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রাখবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, জননিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত ৮ জন ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

















