নিখোঁজ শহীদুলকে নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে তোলপাড়

News pic khagracharis

মো. আল আমিন:

শহীদুল! ফুটফুটে এক বাঙালি শিশু। সে আজ প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে অপহরণ করেছে উপজাতি স্বশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ। গত কিছুদিন আগেও নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার মত আরেকটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ে। তবে এটি ছিল ‘হাই-প্রোফাইল’ অপহরণ। উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হয়েছিল উপজাতি সংগীত শিল্পী সৌরভ চাকমা টিনটিন ও তার বন্ধু। কিন্তু ৫ দিনের মাথায় তাদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। উল্লেখ্য, সৌরভ চাকমা পার্বত্য অঞ্চলের বেশ নামজাদা পরিবারের সন্তান। তার বাবা পিডিবি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক প্রধান, তার শ্বশুর তুষার কান্তি চাকমা সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন ব্রিগেডিয়ার, তার চাচা জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি’র সহ-প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও রাঙামাটির অন্যতম ধর্ণাঢ্য ব্যাক্তি, তিনি চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের আগের স্ত্রীর ভাই। সুতরাং এত গুরুত্বপূর্ণ পরিবার সমূহের আত্নীয় এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও তার বন্ধুকে ৫ দিনের মাথায় উদ্ধার করে ফেলে সেনাবাহিনী। অবশ্য পাহাড়ে যে কোনো উপজাতি সদস্য অপহরণই হাই প্রোফাইল অপহরণ হিসাবে বিবেচিত হয়, অন্তত প্রশাসনের দৃষ্টিতে।

সাইবার দুনিয়ায় তোলপাড় টিনটিনের নিয়ে। সবার প্রশ্ন, সৌরভ চাকমা ও তার বন্ধুকে ৫ দিনের মাথায় উদ্ধার করা গেলেও, ২ মাস আগে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষে অপহৃত হওয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান শিশু শহীদুলকে উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে না, এমনকি তার অপহরণ রহস্যের কোন কিনারা কেন হচ্ছে না?

ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাকঃ ঘটনার শুরু খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে নিহত সবিতা চাকমা নামের এক উপজাতি নারীকে নিয়ে। সবিতা চাকমার লাশ কমলছড়ির চর এলাকার সবজি ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী তিনি নিহত হন। তিনি কেন নিহত হয়েছেন, এটা নিয়ে আজও ধোঁয়াশা থাকলেও সবসময়ের মত উপজাতি সংগঠনগুলো প্রথম থেকেই একতরফাভাবে দোষ দিতে থাকে বাঙালিদের। এক্ষেত্রে তারা দায়ী করে কোন একটি যানবাহনের বাঙালি হেলপারকে, যে না কি ধর্ষণ করে খুন করে রেখে যায় সবিতাকে। যদিও সবিতা চাকমা যেখানে নিহত হয়েছেন, সেটি সম্পূর্ণই পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকা এবং নিকটস্থ সড়ক থেকে বহু দূরে। ময়নাতদন্তে বের হয়ে যায় গোমর। ময়নাতদন্তে রিপোর্টে দেখা যায়, সবিতা চাকমাকে ধর্ষণ করা হয়নি, তার তখন পিরিয়ড চলছিল, তাই পিরিয়ডকালীন অতিরিক্ত পোশাক যথাস্থানেই ছিল। এ নিয়ে পার্বত্যনিউজেই সর্বপ্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

এদিকে তখনও বাঙালিদের দায়ী করে সর্বত্র মিছিল মিটিং অব্যাহত রেখেছিল পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠন। পাহাড়ি স্বশস্ত্র ও অনিবন্ধিত সংগঠন ইউপিডিএফ পাহাড়ের প্রত্যেকটি উপজেলায় এ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। এমনকি শাহবাগেও তারা মানববন্ধন করে। তখন এগিয়ে আসে বাঙালি সংগঠন বাঙালি ছাত্রপরিষদ। তারা সবিতা চাকমাকে হত্যার পেছনে বাঙালিদের দায়ী করার প্রতিবাদে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরে আয়োজন করে মানববন্ধনের। কিন্তু মানববন্ধন করে ফেরার পথে বেশ কয়েকজন নিরীহ বাঙালিকে অতর্কিতে হামলা করে পাহাড়ি উগ্র যুবকেরা। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন বাঙালি গুরুতর আহত হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আক্রমনাত্নক হয়ে উঠে স্থানীয় বাঙালিরাও। তবে প্রশাসন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুরোধে শান্ত থাকে তারা।

কিন্তু হঠাৎ করেই খবর বের হয় বাঙালি শিশু শহীদুলকে অপহরণ করেছে ইউপিডিএফ। জনা কয়েক বাঙালি শহীদুলকে খুঁজতে পাহাড়ি এলাকায় গেলে সেখানে সহযোগীতা না করে, উল্টো সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দেয়া হয়। একজন বাঙালির চোখ উপড়ে ফেলে, অপর আরেকজনের রগ কেটে দেওয়া হয়। তখন ‘Jummaland’ ‘cht voice’  নামের কিছু ফেইসবুক পেইজ রটানো হয়, বাঙালিরা পাহাড়িদের বাড়িতে হামলা করতে এসেছে। একইসাথে সবাইকে প্রতিরোধ করতে উস্কানি দেয়া হয় পাহাড়িদের।

সিএইচটি কমিশনসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন সবিতা চাকমাকে নিয়ে বিবৃতি দিলেও, অপহৃত শিশু শহীদুলকে নিয়ে আজও কোন বিবৃতি দেয়ার প্রয়োজনটুকু মনে করেনি। সংসদে স্থানীয় এমপিদের আলোচনায় সবিতা স্থান পেলেও শহীদুল উহ্য থাকে। ঘটনার পরপর সেনাবাহিনী, পুলিশ শহীদুলের পরিবারকে তাকে উদ্ধারের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি কোন আশ্বাস। এমনকি নামেমাত্র মামলা নেওয়া হয় অপহরনের ১৫ দিন পর। কোন ধরণের সিরিয়াস অভিযান পরিচালনা করা হয়নি আজও। ঘটনার সাথে জড়িত রুবেল চাকমা, বিজ্জুকা চাকমা, মিন্টু চাকমারা আছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শহীদুল মরে গেছে না বেঁচে আছে, কেউই জানে না খবর।

সৌরভ চাকমা বনাম শহীদুলঃ অপহরণ হওয়ার প্রায় ২ মাস অতিক্রান্ত হলেও আজও কোন ধরণের খোঁজ মেলেনি শহীদুলের। প্রশাসন নিশ্চুপ রহস্যজনকভাবে। আদরের সন্তানের কথা মনে করে হু হু করে কেঁদে উঠেন পূত্রশোকে কাতর শহীদুলের মা। কারও শান্তনাই যেন তার মনের দুঃখ কমাতে পারছে না। কিন্তু কিছুদিন আগে উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হওয়া সৌরভ চাকমাকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তোড়জোড় অবাক করে স্থানীয় সকলকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণ নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হলেও অপহৃত বাঙালী হলে তোড়জোড় খুব খমই হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বহু ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, কেবল মাত্র গুরুত্বপূর্ণ ও পাহাড়ীরাই কি প্রশাসনের আনুকূল্য পাবেন? কিংবা দরিদ্র বা ‘অগুরুত্বপূর্ন’ বা বাঙালি হওয়ার কারনেই কি শহীদুল রয়ে যাবে প্রশাসনের নজরের বাইরে? নাকি পেছনে কাজ করছে অন্য কোন রহস্য, যার কারণে আজও শহীদুলের মা তার সন্তানের খোঁজ জানার অধিকার পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন? আজ আমরা ফেসবুক থেকে কিছু নির্বাচিত মন্তব্য ও স্ট্যাটাস নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালী অধিকার আন্দোলন নামের ফেসবুক পেইজে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ারের জামাতা বলে ৫ দিনের মাথায় সৌরভ চাকমাকে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী। কিন্তু আমাদের শহীদুল? তাকে আজও উদ্ধারে কোন অভিযান কেন করা হলো না? সে ছোট বলে? সে গরীব বলে? তার লাশটাও খুজে পাওয়া গেল না আজও।”

আল-আমিন ইমরান নামের এক আইডি থেকে লিখেছেন, “আজ যদি শহিদুল ইসলাম নামটির পরিবর্তে শহিদুল চাকমা হতো তবে দেখতেন কতো মিডিয়ার বোবা কান্না… পাশাপাশি চেতনা ধরদীদের বুকফাটা আর্তনাদ। দুঃখের বিষয় নিঃস্পাপ এই শিশুটির জন্য কথা বলার কোন মানুষ আজ নাই।”

গাজী সালাউদ্দীন লিখেছেন, “৫৪টি দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। অথচ চুড়ি পরে থাকা স্থানীয় প্রশাসন আজ অবধি উদ্ধার করতে পারেনি শিশুটিকে। হতদরিদ্র বাবা-মা আদৌ ফিরে পাবে তার সন্তানকে?”

দেলোয়ার হোসেন নামের এক আইডি থেকে লেখা হয়েছে, “সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাই,
সেনাবাহিনীর জামাই বলে সৌরভ চাকমা ও তার বন্ধুকে জামাই আদরে উদ্ধার করলেন, আর এক নিরহ গরীব পরিবারের সন্তান বলে শহীদুলকে আপনারা আজ ৫৫ দিনেও উদ্ধার করতে পারলেন না, নাকি গরীব বাঙ্গালী বলে উদ্ধার করছেন না, শহীদুল না হয়ে যদি কোন চাকমা বা পাহাড়ি উপজাতি হত, আপনাদের স্বজন হতো আপনারা কি করতেন জানতে বড় ইচ্ছা করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর এখনো আমাদের বিশ্বাস অটুট আছে, আপনারা দেশের সবার জন্য সমান। পার্বত্য চট্রগ্রামের বাঙ্গালী বা উপজাতি আপনাদের চোখে সমান হওয়াই কথা। আমরা কি আর দশজন বাংলাদেশের নাগরিকের মত বাংলাদেশী নই, পার্বত্য চট্রগ্রাম কি বাংলাদেশের অংশ নয়, নাকি পার্বত্য চট্রগ্রামে বাস করি বলে আমরা সবার কাছে বৈষম্যের শিকার, আমরা তো এখনো বিশ্বাস করি পার্বত্য চট্রগ্রামের শান্তি আপনারাই ফিরিয়ে আনতে পারবেন, প্লিজ সেনাবাহিনীর ভাইয়েরা, আমাদেরকে বাঁচান , আমাদের পরিবারদেরকে বাঁচান, শহিদুলকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিন”।

দ্রোহের অনল নামের আইডি থেকে লেখা হয়েছে, “ খাগড়াছড়ি শহর থেকে রাস্তাটা দক্ষিন দিকে চলে গেছে।
চিকন সরু পিচঢালা রাস্তা। রাস্তার দুপাশে সেগুন আর গামারী গাছের ঘন ঝোপঝাড়। ঘর-বাড়ি বিহীন নিরিবিলি রাস্তাটি শরীরে এক ধরনের শিহরন জাগিয়ে দেয়। ছায়াঘেরা আকাঁবাকাঁ রাস্তাটি অনুসরণ করেই এগিয়ে চলেছি আমরা। গ্রামের নাম ভূয়াছড়ি। খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গ্রামটির অবস্হান। বাঙালী অধ্যুষিত গ্রাম। গ্রামটির চারপাশে ঘিরে আছে উপজাতি সম্প্রদায়ের গ্রামগুলো।

সন্ধ্যার পূর্বমূহূর্তেই আমরা আমাদের লক্ষে পৌছে যাই। উদ্দেশ্য ভূয়াছড়ি গ্রামের শহর আলীর (৪৭)
বাড়ি। অটো চালক শহর আলী ভূয়াছড়ির নিরীহ প্রকৃতির লোক গুলোর একজন। দুই ছেলে দুই মেয়ের জনক শহর আলী। ৪৭উর্ধ্ব শহর আলীকে দেখলে মনে হবে বয়স ৬০এর কাছাকাছি। চিন্তা আর আতংকের দাগ লেগে আছে তার কপাল আর চোখে মুখে। অনেকটা নির্বাক। আমাদের দেখে কিছুটা বিরক্তই হলেন তিনি। বললাম,”চাচা একটু কথা বলা যাবে?”
অনেকটা রাগন্বিত স্বরেই বললেন, “কিয়ের কথা? আপনেগো লগে কোন কথা নাই।”
বুঝতে পারলাম তিনি অনেক রেগে আছেন।
অনেকটা বিনয়ের স্বরে আবারো বললাম “চাচা আমরা পুলিশ বা সাংবাদিক নই, আমরা আপনাদেরই ছেলে, আমাদের সাথে একটু কথা বলুন”।
এবার কিছুটা শান্ত শহর আলী, “কন কি কইবেন?”
“আপনার ছেলে মেয়ে কয়জন?”
“দুই পোলা, দুই মাইয়া”
“ছেলে তো একটাকে দেখতেছি আরেকটা কোথায়?”
“আরেকটা হারাইয়া গেছে”
“হারিয়ে গেছে মানে?” অনেকটা না জানার মত করেই জিজ্ঞাসা করলাম।
“হারাইয়া গেছে মানে হারাইয়া গেছে!!” অনেকটা উত্তেজিত হয়েই বললেন তিনি।
আমি বললাম “চাচা সব কথা খুলে বলুন,আমরা আপনার ছেলেকে খোজেঁ পেতে চেষ্টা করবো”
এবার তিনি মূখ খুললেন।…..

ছেলে হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে পড়ে শহর আলী। মা ফরিদা বেগমের আহাজারীতে ভারী হয়ে উঠে ভুয়াছড়ির আকাশ বাতাস। এখানে ওখানে, এর কাছে ওর কাছে ছুটতে থাকে দরিদ্র লোকটি। কখনো পুলিশ,কখনো চেয়ারম্যান আবার কখনো মেয়রের কাছে ধরনা দিতে থাকে শহর আলী। এক এক করে সবাই ফিরিয়ে দিয়েছে ছেলে হারানো এই পিতাকে। কেউ বলেছে এসব নাটক,কেউ বলেছে ছেলেকে নিজেরাই কারো বুদ্ধিতে লুকিয়ে রেখেছিস,কেউ বলেছে আমার দ্বারা কিছুই করার নেই তুই খুজে বের কর ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটি মামলাও করা হয়েছিল ছেলেটিকে উদ্ধার করার জন্য। ছেলেটিকে উদ্ধারে প্রশাসনের কোন প্রতিক্রিয়া নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। শহর আলী তার ছেলেকে উদ্ধারে খাগড়াছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার বিশ্বাস তার ছেলে এখনো বেচেঁ আছে। চঞ্চুমনি চেয়ারম্যানের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস, তার মতে, তিনিই পারবেন অভিবাবক হয়ে তার ছেলেকে মুক্ত করে আনতে।

যদি তাই হয় তবে তাই ই হোক।
ফিরে আসুক শহিদুল। কমে যাক ফরিদা বেগমের সন্তানহারা আর্তনাদ। শহর আলীর বুকে জমে থাকা চাপা কষ্টের অবসান ঘটুক। পাহাড়ে শান্তি বয়ে আসুক শহিদুলের হাত ধর “।

নাজিমুদ্দিন আহম্মেদ লিখেছেন, “পলিথিনের থলে দিয়ে মোড়ানো শহিদুলের নিজের হাতে তৈরি বল, বিভিন্ন রকম খেলনা,শার্ট প্যান্ট, জুতা সবই আছে শুধু শহিদুল নেই।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে বাঙালি সংগঠন গুলোর নিরবতা ও অসক্রিয়তা নিয়েও।

রাফি পাটোয়ারী নামের একজন এ বিষয়ে লিখেছেন, “এই শহিদুলের পরিবর্তে যদি একটি উপজাতি চাকমা ছেলে অপহরণ হতো তাহলে বুঝা যেত প্রতিবাদ কাকে বলে! আমরা বাঙালিরা কারো প্রতি কেউ দায়িত্বশীল না, যেমনটা উপজাতিরা তাদের একের প্রতি অন্যেরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। একটা বাচ্চা ছেলে শহীদুল ৫৪ দিন নিখোজ! সবাই কেন চুপচাপ? কারো যেন কোন দায়িত্ব বা কর্তব্য নেই।”

ওবায়দুল্লাহ আল মেহেদী লিখেছেন, “কই দেখলাম শহিদুলের ব্যাপারে ছাত্র পরিষদের আন্দোলন? সমঅধিকার আন্দোলন করেছে কোথায়? সবাইইতো একদম চুপচাপ। এভাবে কি বাঙ্গালীর অধিকার রক্ষা করতে পারবেন আপনারা? এভাবে কি তা সম্ভব? আর কোন ঘটনায় আন্দোলন জোরদার হবে আপনাদের? একটি শিশু ২ মাস নিখোঁজ থাকার চেয়েও বড় ঘটনা ঘটলে? এর চেয়ে আর বড় ঘটনা কি হতে পারে?”

অজান্তা আক্তার টিনা লিখেছেন, “পার্বত্য অঞ্চলে একের পর এক বাঙ্গালী গুম, অপহরণের শিকার হচ্ছে। কোথায় আজ বাঙ্গালী ছাত্রপরিষদ ও সমধিকার ছাত্র নেতারা,  তারা কেন নিশ্চুপ? তারা কি আন্দোলন করতে জানেনা। তারা কি পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের ভয় পায় নাকি প্রশাসন কে ভয় পায়। আপনারা না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরা বাঙ্গালী, পাহাড়ী সন্ত্রাসিদের হাতে জীবন চলে গেলে তাতে কার কি আসে যায়? আপনারা আমাদের নাম বেছে নেতা হতে লজ্জা করে না। নামে আছেন, কাজে নাই, তার মানে কী’ ?

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অপহরণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 11 =

আরও পড়ুন