পার্বত্যঞ্চলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: মন্ত্রী তাজুল ইসলাম

fec-image

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন,‘পার্বত্যঞ্চলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্যঞ্চলসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন।

বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি মিলনায়তনে তিন পার্বত্য জেলার উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯০০সালের হিলট্রেক্ট ম্যানুয়েল অনুযায়ী যে নিয়ম আছে তা কিছুটা পরিবর্তন করতে হবে। কারণ এডিবি থেকে যে বরাদ্ধ দেওয়া হয় সে নিয়মানুযায়ী এ অঞ্চলে উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।পার্বত্যঞ্চলের অনেক উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ভবন, ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নেই। সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য এ সমস্যাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানে লিখিত আকারে পাঠনোর জন্য অনুরোধ করেন।

পার্বত্যঞ্চলকে একটি স্বতন্ত্র অঞ্চল উল্লেখ করে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানান, সমতলের সাথে এ অঞ্চলের অনেক পার্থক্য আছে। সেজন্য সমতলে যে পরিমাণ বরাদ্ধের মাধ্যমে উন্নয়ন করা সম্ভব সে পরিমাণ অর্থ দিয়ে এ অঞ্চলে উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বসে এসব অসুবিধার কথা আলোচনা করে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।এলজিডি, পাবলিক হেলথ ডিপার্টমেন্টকে এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, পার্বত্যঞ্চলের অনেক উপজেলা চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর শততমবর্ষ পালনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জন্য যে সাড়ে ৬লাখ টাকার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে তা যথাযথ নয়। এ সমস্যাটি বিবেচনা নিয়ে সমাধানে কাজ করবেন বলে যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সকলে এক না হলে উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য পাবলিক হেলথ, এলজিডি, পৌরসভা, উপজেলা চেয়ারম্যান সকলে সমন্বয় করে কাজ করবেন। আর উপজেলার ইউএনওবৃন্দরা চেয়ারম্যানকে অবগত করে সকল কাজ করবেন।

রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন, রাঙামাটির মূল সমস্যা হলো- ভূমি ধ্বস। কয়েক বছর ধরে প্রবল বর্ষণের কারণে এ অঞ্চলে মারাত্বক ভাবে ভূমি ধ্বস হচ্ছে। যে কারেণ সড়কের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে রাঙামাটির ক্ষেপ্পোপাড়া-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করার জোর দাবি জানান তিনি।

এমপি আরও বলেন, রাঙামাটির সড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা বেহাল। এজন্য এলজিডি’র মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব পুরো জেলার সড়কগুলো মেরামত করে যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্নতি করা হোক। অতীতে পাহাড় দ্বীপ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলো। বর্তমানে সকল বিভাজন মুছে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতার সাথে পাহাড়ের উন্নয়নে বিভিন্ন মেগা প্রকেল্পর মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদূর উশৈসিং এমপি, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টা শুরু হয়ে বিকেলে ৩টায় শেষ হয়।

সভার সভাপতিত্ব করেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং সভার পরিচালনা করেন, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ।

এ মতবিনিময় সভায় তিন পার্বত্য জেলার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা অংশ নেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য, রাঙ্গামাটি, স্থানীয় সরকার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × four =

আরও পড়ুন