রাঙামাটি থেকে আম গাছের অন্তরালে পাচার হচ্ছে সেগুন কাঠ: ট্রাক ভর্তি কাঠ আটক

Tree-01

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
দীর্ঘদিন যাবৎ রাঙামাটি শহর থেকে প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ নিয়ে আম গাছের অন্তরালে পাচার করা হচ্ছে সেগুন কাঠসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান কাঠ। শহরের রাঙাপানি এলাকায় গড়ে উঠেছে অঘোষিত গাছের আড়ত। যেখানে প্রতিনিয়ত জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ এনে জড়ো করে সাইজ করা হয়। এবং রাতের বেলায় ট্রাকে বোঝাই করে ট্রাকের উপরের অংশে আম গাছ বোঝাই করে ভেতরে সেগুন গাছসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাঠ ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জেলার বাইরে বিভিন্ন জায়গায়।

রোববার পৌরসভা মেয়রের অনুমতিপত্র নিয়ে আম গাছের অন্তরালে মূল্যবান সেগুন কাঠ পাচারের সময় প্রায় আট লক্ষ্য টাকা মূল্যমানের গোল কাঠভর্তি ট্রাক আটক করেছে রাঙামাটি বন বিভাগ কতৃপক্ষ। বেলা বারটায় রাঙামাটি থেকে চট্রগাম পাচারের সময় শহরের প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি থেকে এগুলো আটক করা হয়। কাঠভর্তি আটকৃত ট্রাকের নাম্বার হলো-ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-০৮৩৭।

মানিকছড়ি চেক পোষ্টের বন কর্মকর্তা কেএম দেলোয়ার হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা ট্রাকটিকে আটক করে চেক করার সময় আম গাছের নিছে সেগুন কাঠসহ কড়ই গাছের গোল টুকরা দেখতে পাই এবং কাঠসহ ট্রাকটিকে আটক করি। এসময় ট্রাকের ড্রাইভার ও কাঠের সঙ্গে থাকা লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা যায়নি।

মানিকছড়িতে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ট্রাকটিকে আটক করে চেক করার সময় রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু জাফর লিটন ও ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ধীরেন্দ্র চাকমার স্বাক্ষরিত সুপারিশ করা কাগজ দেখিয়ে চলে যাওয়ার সময় ট্রাকভর্তি গাছ গুলো চেক করে আম গাছের অন্তরালে কড়ই গাছ ও সেগুন গাছ পাওয়া যায়। পরে গাছসহ ট্রাকটিকে আটক করতে সক্ষম হলেও সাথে থাকা লোকজন পালিয়ে যায়।

এব্যাপারে রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবু জাফর লিটন জানান, পৌরসভা একটি জনপ্রতিনিধ্ত্বিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা জনপ্রতিনিধিদের কাছে সুপারিশের জন্য আসে সাধারণ জনগণ। তাই আমরা সহানুভূতির চোখে তাদেরকে সুপারিশ করে থাকি এতে করে যদি আমাদের সুপারিশকে কাজে লাগিয়ে অসাধূ কর্মকান্ড করে তাহলে আমরা ভবিষ্যতে এসব ব্যাপারে আর সুপারিশ করবোনা।

এদিকে রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধূরী ভূট্টোর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কোনো প্রকার কাঠের ব্যাপারে আমাদের পৌরসভার পক্ষ থেকে সুপারিশ করার কোনো সুযোগ নেই আর আমাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যদি কেউ কোনো প্রকার অবৈধ কর্মকান্ড চালানোর চেষ্ঠা করে তাহলে খোজঁখবর নিয়ে এর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব। এছাড়া পৌরসভার মেয়র হিসেবে কোনো ধরনের কাঠ পরিবহনের কোনো কাগজে স্বাক্ষর দেন না বলেও জানান পৌর মেয়র।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 16 =

আরও পড়ুন