অপারেশনাল ব্যর্থতায় ভূপাতিত হয় ভারতীয় রাফাল, দাবি ফরাসি কমান্ডারের


চলতি বছরের মে মাসে চার দিনের যুদ্ধে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। এই যুদ্ধে ভারতের রাফালসহ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাকিস্তান। চীন নির্মিত জে-টেনসি, পিএল-১৫ এবং এইচকিউ-৯সহ উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে তারা এই যুদ্ধবিমান ভুপাতিত করে।
ভারতের রাফাল ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরাসি কমান্ডার ক্যাপ্টেন জ্যাক লৌনে।
যুদ্ধের সময় রাফালের রাডার সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ক্যাপ্টেন লৌনে বলেন যে, সমস্যাটি প্রযুক্তিগত নয় বরং অপারেশনাল। যুদ্ধবিমানে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে যুদ্ধবিমান সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে বিমান যুদ্ধের সময় ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে তিনি এই ফলাফলের জন্য চীনা জে—১০সি যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে ক্রেডিট না দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জি নিউজের খবরে লৌনের বলা তথ্য প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের এক প্রতিবেদনে ভারতের যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি করা হলেও ভারত সরকার এখনো তা স্বীকার করেনি।
ল্যান্ডিভিসিউ নৌ বিমান ঘাঁটির কমান্ডার ক্যাপ্টেন জ্যাক লৌনে আন্তর্জাতিক ইন্দো—প্যাসিফিক সম্মেলনে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘২০২৫ সালের ৬—৭ মে রাতে ১৪০ টিরও বেশি যুদ্ধবিমান আকাশে একে অপরের মুখোমুখি হলেও পাকিস্তান বিমান বাহিনী অনেক ভালোভাবে প্রস্তুত ছিল। ক্যাপ্টেন লৌনে তার ঘাঁটিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এটি একটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি ছিল যেখানে ১৪০ টিরও বেশি যুদ্ধবিমান জড়িত ছিল। উভয় পক্ষের প্রচুর সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু থাকায় একটি বিমানকে আঘাত করা খুব সহজ ছিল’।
পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষের তুলনায় সেই জটিল পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে মোকাবিলা করেছিল। ইউরোপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিদফতরের সহযোগিতায় ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন ন্যাশনাল ডিফেন্স আয়োজিত ইন্দো—প্যাসিফিক সম্মেলনে ৩২টি দেশের ৫৫ জন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় কমান্ডার লৌনে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
ক্যাপ্টেন লৌনের বক্তব্যের মাঝেই একজন ভারতীয় প্রতিনিধি বাধা দিয়ে দাবি করেন যে, প্রতিবেদনগুলো ‘বিভ্রান্তিকর চীনা তথ্য’ এবং কোনো রাফাল গুলি করে ভূপাতিত করা হয়নি। তবে ক্যাপ্টেন লৌনে তার মন্তব্য আমলে না নিয়ে তার বিশ্লেষণ চালিয়ে যান।
ফরাসী এই নৌ কমান্ডার দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রাফাল বিমান উড়িয়ে আসছেন এবং তিনি এ ঘাঁটিতে ৪০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী রাফাল, ৯৪টি নৌযুদ্ধজাহাজ, ১০টি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ১৯০টি বিমানের অভিযান তদারকি করেছেন। এমনকি তিনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা এবং ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি একটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায়স অংশগ্রহণ করেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র বাহিনীগুলো ভবিষ্যতের সংঘাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পাক-ভারত বিমান যুদ্ধ সম্পর্কে গবেষণা পরিচালনা করছে।
এ যুদ্ধকে পাইলট, যুদ্ধবিমান এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মক্ষমতা পরীক্ষা করার একটি বিরল সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

















