রাঙামাটিতে তীব্র বর্ষণ, বাড়ছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা


দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে গত কয়েকদিন ধরে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এদিকে বৃষ্টিতে বাড়ছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও পাহাড়ের পাদদেশে দিনদিন বাড়ছে বসতির সংখ্যা।
স্থানীয় প্রশাসন গত কয়েকদিন ধরে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনদের সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য প্রশাসন পুরো জেলায় ২৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। সড়ক ধস রোধ মোকাবিলা, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখা, স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা, বন্যা কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাবার সংগ্রহ করার ব্যবস্থা আগেই প্রস্তুতি সেরেছে প্রশাসন। তবে আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে কোন মানুষ আশ্রয় নিতে দেখা যায়নি।
এদিকে রোববার থেকে ভারী বর্ষণে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোন সময় নিম্ন এলাকাগুলো পানিতে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এইজন্য ওই এলাকার মানুষদের দ্রুত সময়ে সরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্যমতে, রোববার (৩০ জুন) সকাল থেকে সোমবার (১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে আমরা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছি। উপজেলা পর্যায়গুলোতে একই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে টিম গঠন করেছি। যেকোন দুর্যোগ মোকবিলায় আমরা একসাথে কাজ করবো।
জানা যায়, জেলায় ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে সরকারি হিসেবে ১২০ জনের প্রাণহানি এবং পরের বছর পাহাড় ধসে আরও ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিলো।

















