নেইমার ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত

fec-image

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবরটি দিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড নিশ্চিত করেছেন, মাঠ কাঁপাতে এবং পুরো ৯০ মিনিট খেলতেই শতভাগ প্রস্তুত সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার।

ব্রাজিলের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘ফোলিয়া দে সঁ পাওলো’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমারের শারীরিক উন্নতির ভূয়সী প্রশংসা করেন আনচেলত্তি। সেই সাথে মাঠ ও মাঠের বাইরে এই পোস্টার বয়ের ইতিবাচক মনোভাবেরও প্রশংসা করেন তিনি। নেইমারের ফিটনেস নিয়ে জানতে চাওয়া হলে আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দেন, ‘হ্যাঁ, ও পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্যই তৈরি।’

বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ২টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে পুরোটা সময় খেলার জন্য নেইমার নিজে যেমন মরিয়া হয়ে আছেন, তেমনি চোট কাটিয়ে ফেরার পুরো সময়টাতে তার একাগ্রতা ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো।

নেইমারের ভেতরের জেদটা লুকাতে চাননি আনচেলত্তি, তবে তার পেশাদারিত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। আনচেলত্তি বলেন, ‘পুরো সময় খেলতে না পেরে ও যে খুব একটা খুশি, তা নয়; কিন্তু ওর আচরণ এক্কেবারে নিখুঁত। অনুশীলনে ও নিজের শতভাগ ঢেলে দিচ্ছে। নেইমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল, অমায়িক এবং দলের সবার কাছে ভীষণ জনপ্রিয়। ওর ফুটবলীয় স্কিল যেমন দুর্দান্ত, মানুষ হিসেবেও ও তেমনি বিনয়ী—তাই দলের জন্য ও মস্ত বড় এক সম্পদ। ওকে দলে পেয়ে আমি দারুণ খুশি। আর মাঠে নামার জন্য ওর ক্ষুধা তো সবসময়কার মতোই তীব্র।’

জাপানের বিপক্ষে জয় দিয়ে ব্রাজিল শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করলেও, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সেই জয়সূচক গোলের পর ডাগআউটে আনচেলত্তিকে কেন খুব একটা উল্লাস করতে দেখা যায়নি—সেই রহস্যের জটও এবার খুললেন সেলেসাও বস। কেবল নিজের শারীরিক কন্ডিশনই নয়, ম্যাচ শেষ হওয়ার শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতেই তার এই শান্ত থাকা।

নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধ ঢেলে ৬৬ বছর বয়সী এই কোচ ব্যাখ্যা করেন, ‘আরে, আমি তো আর মাঠে দৌড়াতে পারি না, দৌড় দিলে হাঁটু ছিঁড়ে যাবে! আমার বয়স এখন ৬৬। আর আমার কাছে খেলা শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষ হয় না। মার্তিনেল্লি যখন গোলটা করল, তখনও ম্যাচের কয়েক মিনিট বাকি ছিল। তাই আনন্দ করার কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ আমার ক্যারিয়ারে এমন বহুবার হয়েছে—যে ম্যাচ জিতে গেছি ভেবে নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম, একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে সেটিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে। নকআউট পর্বের এই অগ্নিপরীক্ষার আগে প্রতিপক্ষের শক্তি আর সামর্থ্যকে সমীহ করছেন সেলেসাও বস কার্লো আনচেলত্তি। একইসাথে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে শুধু ট্যাকটিকস নয়, স্নায়ুচাপ ধরে রাখার মানসিক শক্তিই গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।

আনচেলত্তি মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। এখানে কেবল মাঠের কৌশল বা ফুটবলীয় স্কিলই শেষ কথা নয়; মাঠের ভেতরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই এবং স্নায়ু ধরে রাখার ক্ষমতাও বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নরওয়ের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি দলটির মহাতারকা আর্লিং হলান্ডকে নিয়ে শিষ্যদের আলাদাভাবে সতর্ক করে দেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘নরওয়ে ভীষণ গোছানো একটা দল, ওদের বেশ কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে। বিশেষ করে হলান্ড এই মুহূর্তে বিশ্বসেরাদের একজন। তাই ম্যাচটা যে কঠিন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে নিজেদের সেরা ফুটবলটা খেলে আমরাই মাঠ ছাড়ব।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নেইমার, ফুটবল, বিশ্বকাপ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন