রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও’র চাকরিতে স্থানীয়দের নিয়োগসহ ১৪ দফা দাবীতে বিক্ষোভ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর চাকরিতে স্থানয়ীদের অধিকার আদায়ের ১৪ দফা দাবি নিয়ে আবারো বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় চাকরিচ্যুত ও চাকরি বঞ্চিতরা ।

শনিবার(২৬ জানুয়ারি)বিকাল ৩ টায় উখিয়ার কোটবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে তারা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়ার নেতারা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থা গুলোকে স্থানীয়রা গত দেড় বছর ধরে চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলে আসছিল। কিন্তু এনজিওগুলো স্থানীয়দের দাবি কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে বরাবরই স্থানীয়দের বঞ্চিত করে আসছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করে চরম অবমূল্যায়নের বার্তা দিয়েছেন এসব এনজিও। যা উখিয়ার সচেতন মানুষ কোনো ভাবেই মেনে নিবে না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, এএসপি, আরআরআরসি, এনজিও সংস্থা ডিআরসি, হ্যান্ডিক্যাপ, টিডিএইচ, ফ্রেন্ডশিপ, রিক, মুসলিম এইড, কোস্ট, ডিএসকে, প্লান, টিডিএইচ, কনসার্ন, ব্র্যাক ও অক্সফার্ম-সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অফিসে স্মারকলিপি/অনুলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরত অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি, উখিয়া।

আন্দোলনকারীরা স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি এনজিও কর্মকর্তাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি যোগ্যতা সম্পন্নদের আইএনজিওতে অগ্রাধিকার দেয়ার দাবি জানান।

২৭ তারিখের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে সকল দাবি আদায়ে এনজিওদের বাধ্য করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

এসময় পথসভায় বক্তব্য রাখেন- অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির অহ্ববায়ক শরীফ আজাদ, মনজুর আলম শাহীন, রাশেদুল ইসলাম, তাওচীপ চৌধুরী, রাসেল মাহমুদ, যোবায়েত হোসেন, হেলাল উদ্দিন, মফিদুল আলম প্রমুখ।

আন্দোলনকারীদের ১৪ দফা দাবিগুলো হলো:

১। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে রোহিঙ্গা এনজিওর চাকরিতে স্থানীয়দের ৭০% কোটা দিতে হবে।

২। স্থানীয়দের পরিকল্পিত ছাঁটাইকারী এনজিওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। এনজিও ও আইএনজিওতে প্রত্যেক বিভাগের উচ্চ পদে নুন্যতম ২ জন স্থানীয়কে চাকরি দিতে হবে।

৪। যে সকল এনজিও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ঐ সকল এনজিও তাদের পরবর্তী প্রকল্পে পূর্বের প্রকল্পের স্থানীয়দের চাকরিতে বহাল রাখতে হবে।

৫। নিয়োগের কার্যক্রমে সচ্ছতা আনতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের প্রতিনিধি একটি মনিটরিং সেল করতে হবে।

৬। এনজিওরা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের ৭০ ভাগ অপারেটিং খরচ হিসেবে ব্যয় করে এতে রোহিঙ্গারা ও স্থানীয়রা তাদের ন্যায্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এনজিওদের এসকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশি কর্মকর্তারা নূন্যতম ৫ লক্ষ টাকা বেতন পাচ্ছে সেক্ষেত্রে একজন স্থানীয় বেতন ১০-১৫ হাজার টাকা। এনজিওতে চাকরিতে বেতন বৈষম্য দূর করতে স্থানীয়দের নূন্যতম বেতন ৫০ হাজার টাকা করতে হবে।

৮। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১৩শ বিদেশি কর্মকর্তার বেতন ও আনুসাঙ্গিক খরচ মিলে ২শ কোটি টাকার বেশি অর্থ খরচ করছে। এ সকল বিদেশি কর্মকর্তার স্থলে দেশীয় যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের চাকরি দিতে হবে।

৯। বিদেশি এনজিওরা মোট বরাদ্দের ৯০ ভাগের বেশি অনুদান পাচ্ছে এবং এ সকল অনুদান বিভিন্ন কৌশলে আবার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচাররোধে টঘ সংস্থাগুলো ছাড়া সকল বিদেশি এনজিওদের ফেরত পাঠাতে হবে। বিদেশি এনজিওদের স্থলে দেশীয় এনজিওদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১০। প্রতিমাসে সকল এনজিওকে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্থায়ী ঠিকানাসহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

১১। দক্ষতা অর্জনের জন্য স্থানীয়দের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১২। এনজিওতে চাকরির জন্য প্রতিটি অফিসে সরাসরি আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৩। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করতে এনজিওদের বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

১৪। প্রত্যাবাসন বিলম্ব হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কাটাতারের বেষ্টনী দিয়ে রোহিঙ্গা সুনির্দিষ্ট গণ্ডির ভিতর রাখার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া, এনজিও, কক্সবাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + nineteen =

আরও পড়ুন