উখিয়ায় হ্যাচারী শিল্পের দূষিত বর্জ্যে সাগরে মারা পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী

fec-image

উখিয়ার সোনারপাড়া থেকে কলাতলী পর্যন্ত ৪২ টি হ্যাচারী থেকে বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিন ছাড়া হচ্ছে হাজার হাজার লিটার রাসায়নিক পদার্থ। আর এতে সাগরের পানি দুষিত হয়ে সামুদ্রিক প্রাণী ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয় জনগনের অভিযোগ। যেভাবে সাগরে হ্যাচারী গুলোর বিষাক্ত পদার্থ চড়াচ্ছে তাতে সাগরের পানিগুলো বিষে পরিনত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার সোনারপাড়া, নিদানিয়া, ইনানী হ্যাচারী জোন ঘুরে বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উখিয়া সোনারপাড়া থেকে শুরু করে কক্সবাজারের কলাতলী পর্যন্ত ৪২ টি ছোট বড় হ্যচারী শিল্প প্রতিষ্টান রয়েছে। এসব হ্যাচারী থেকে ২ টি বড় পাইপ লাইন গিয়ে মিশেছে সাগরে । এতে ১টি পাইপ লাইন দিয়ে লবনাক্ত পানি সংগ্রহ করা হয়। অপরটি দিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত দূষিত পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হ্যাচারীর একাধিক কর্মচারী জানান, প্রতিদিন একটি হ্যাচারীতে ৩‘শ থেকে ৪‘শ মন লবণাক্ত পানি সংগ্রহ করতে হয় । আর পানিগুলো সংগ্রহ করার পর হ্যাচারীর কর্মচারীরা রাতে পোনা গুলো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে লবণাক্ত পানিতে ধুয়ে আবার পানি গুলো পাইপ লাইনের মাধ্যমে সমুদ্রে বর্জ্যসহ ফেলে দেয়া হয়।

এ হিসেবে প্রতিদিন একটি হ্যাচারী থেকে ৪‘শ মন পানি সমুদ্রে ফেলা হলে ৪২ টি হ্যাচারী থেকে প্রতিদিন সমুদ্রে বিষাক্ত পানি ফেলা হচ্ছে ১৬ হাজার ৮‘শ মন বর্জ্য। প্রতিদিন বিপুল পরিমান বিষাক্ত পানি সমুদ্রে ছড়ানোর ফলে সমুদ্রে মাছ শূন্যতাসহ সামুদ্রিক প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। একেএকে মারা পড়ছে জীববৈচিত্র। ।

স্থানীয় জনগনের অভিযোগ, প্রতিদিন এভাবে বিপুল পরিমান বিষাক্ত পানি সাগরে যাওয়ার ফলে সাগরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে পানিগুলো বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাছাড়া এভাবে বিষাক্ত রাসায়নিক যুক্ত পানি সাগর ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে এলাকায় ছাড়ার কারনে স্থানীয় জমিজমা গুলোতে কোন চাষাবাদ হচ্ছেনা। এভাবে নোংরা রাসায়নিক পদার্থযুক্ত পানি সাগরে ছাড়া হলে ভবিষ্যতে পরিবেশের আরো মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র মতে, বিষাক্ত ঔষুধ মিশ্রিত করে নোনা পানিতে চিংড়ি পোনা গুলো রাখা হয়। প্রতিদিন পানি বদল করতে হয় বাধ্যতামুলকভাবে। তাই এসব রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত পানি ক্ষতিতো করবেই। ফলে যেভাবে সাগরে প্রতিদিন বিষাক্ত পানি ছড়াচ্ছে তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে উপকূলবাসী।

অচিরেই এসব দুষিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা না হলে বঙ্গোপসাগরের পানি বিষে পরিণত হবে । আর হুমকির মুখে পড়বে পর্যটন শিল্প। মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটনের অপূর্ব লীলাভুমি কক্সবাজার ও ইনানীতে প্রতিবছর আসা দেশী বিদেশী লক্ষ লক্ষ পর্যটক।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া, বর্জ্য, রাসায়নিক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + nineteen =

আরও পড়ুন