কক্সবাজার ৪ আসনে অপ্রতিরোধ্য শাহজাহান চৌধুরী


উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে কক্সবাজার-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী একাধিক বার জিতেছেন। এবারও তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদের নির্বাচনে মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহজাহান চৌধুরী। পরে শাহজাহান চৌধুরী জিয়াউর রহমান সরকারের জাতীয় সংসদের হুইপ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে ৫ম সংসদে নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে তৃতীয় বারের মতো এবং টানা ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী চতুর্থ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
স্থানীয়রা বলছেন, বহুল আলোচিত এই কক্সবাজার-৪ উখিয়া-টেকনাফ আসনের বিএনপির রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য সাবেক সাংসাদ শাহজাহান চৌধুরী। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ দায়িত্ব পালন করছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে। অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিবিদ ২৬ বছর বয়সে অর্জন করেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব।
বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি এই আসনটিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষ থাকা দলীয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহজাহান চৌধুরী। তাই আসনটি ধরে রাখার জন্য বিএনপির হাইকমান্ড প্রতিবারই শাহজাহান চৌধুরীর উপর ভরসা রেখেছেন।
বিএনপি এবারের সংসদ নির্বাচনে আসনটি ধরে রাখতে হলে শাহজাহান চৌধুরীকে মনোনয়ন প্রদান করেছে। কারণ জনপ্রিয়তায় শাহজাহান চৌধুরীর ধারে কাছেও কেউ নেই। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য নেতারা এলাকা কেন্দ্রিক নেতা। শাহজাহান চৌধুরীর ক্লিন ইমেজ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অমায়িক আচরণের কারণে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের চাইতে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ভোটারদের কাছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে শাহজাহান চৌধুরীর প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠা টেকনাফের জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ভোটের মাঠে আলাদা রাজনৈতিক বলয় তৈরি করতে চাইছেন। বিশেষ করে টেকনাফে তার প্রভাব কিছুটা প্রভাব রয়েছে।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামী কখনো জিততে পারেনি। এবার এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন দলটির জেলা আমির অধ্যক্ষ নূর আহমেদ আনোয়ারী। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একাধিক বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইউপির সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এবার সংসদ নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
উখিয়া-টেকনাফে জামায়াতের দলীয় ভিত্তিও মজবুত। কিন্তু শাহজাহান চৌধুরী বা বিএনপির অন্য কোনো প্রার্থীর সঙ্গে তিনি কতটুকু পেরে উঠবেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় আছে।
এই আসনে নেজামে ইসলামের হয়ে মাঠে নেমেছেন দলটির জেলা শাখার নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব। তিনি হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সদস্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এখানে এবি পার্টি থেকে প্রার্থী হতে চান স্থানীয় সাংবাদিক শামসুল হক শারেক। তিনি এখানে নিজ উদ্যোগে এবি পার্টির কিছু কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এনসিপির মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন মোহাম্মদ হোসাইন নামের এক তরুণ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা নুরুল হক নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

















