থানচিতে নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়ায় ১ শিশু মৃত্যু: শতাধিক শিশু আক্রান্ত

0,,17324035_303,00

থানছি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
থানছি’র রেমাক্রী ইউনিয়নে ১০/১২টি পাহাড়ী পাড়ায় শতাধিক শিশু গত ৪দিনে নেমোনিয়া ও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন কমিউনিটি ও স্বাস্থ্য কর্মীদের দির্ঘদিনের অনুপস্থিত কারনে সু-চিকিৎসা অভাবে শনিবার ২য় শ্রেণির পড়ুয়া এক শিশু মৃত্যু হয়েছে । রেমাক্রী অঞ্চলে গ্রোপিং পাড়া বাসিন্দা মংহ্লাসাইন এর ছেলে মংপুসে মারমা (০৭)কে গতকাল রবিবার দাফন করা হয়েছে বলে ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মংচিংসা মারমা জানিয়েছেন।

খবর নিয়ে জানা গেচ্ছে, গ্রোপিং পাড়া ২০জন,অংহ্লা খুমী পাড়া ০৮জন ,ফোসাউ পাড়া১০জন,অংছো খুমী পাড়া ১২জন ,পানেডং পাড়া ১২জন ,মালিরাং চেয়ারম্যান পাড়া ০৬জন রেমাক্রী বাজারে ১৫/২০জন, অংচিং পাড়া ২০জন, হামাজন ত্রিপুরা পাড়া ১৫জন ও তার আশেপাশে প্রায় ২০/২৫টি পাড়ায় শতাধিক নেমোনিয়া ও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রয়েছে।

জানতে চাইলে রেমাক্রী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মালিরাং ত্রিপুরা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলে ও দীর্ঘ ৩ বছর ধরে কর্মকর্তা কর্মচারী অনুপস্থিত রয়েছে ।

অপর দিকে সরকারিভাবে নিয়োজিত স্বাস্থ্য সহকারি ও উপজেলা সদরে অবস্থান করেন । এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্য কর্মীরা ও অদক্ষতা কারনে স্বাস্থ্য সেবা মান বিপর্যস্থ। তিনি অভিযোগ করে বলেন,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রধান কর্মকর্তা একজন মারমা সম্প্রদায় তিনি যদি বান্দরবান শহরে থেকে থানছি উপজেলা থেকে বেতন ভাতা ভোগ করেন তাহলে অন্যান্য কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কথা কিভাবে বলবো।

গ্রোপিং পাড়ায় কারবারী ফোসাচিং মারমা আবেগ কন্ঠে জানান, আমাদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বকুলি মারমা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পাড়ায় বসবাস করতো ২০১৪ সালে নির্বাচনের ভোট দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে জয় হওয়ার পর থেকে আমাদের একবার তাকিয়ে দেখেন না। বিপতে সময় ও খোজ খবর নেয়া হয় না। পাড়ায় নেমোনিয়া ও ম্যালেরিয়া ২০ জনের আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহনের তার পরমর্শ নিতে গেলে তিনি কথা ও বলেন না বলে জানান।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান,হাসপাতালের ৩জন মেডিকেল অফিসার ও ১জন কর্মকর্তা রয়েছে। কর্মকর্তা থাকেন বান্দরবানে আর মেডিকেল অফিসারা ১০দিন করে পালাবদল করে থাকেন । আগামি ১৬জুন মাসিক সভার আগে আসবেন পরে আবার চলে যাবেন।

মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা প্রতিনিধিকে বলেন, রেমাক্রীতে নেমোনিয়া ও ম্যালেরিয়া আক্রান্তে বিষয়ে জানি তাই গত বুধবার ১জন কর্মকর্তা আমার নিকট ২ হাজার টাকা নিয়েছে মেডিকেল টিম যাওয়ার বোট ভাড়া হিসেবে । আমি জানি তারা চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করার অবস্থা আছেন ।

কিন্তু চিকিৎসা না করে ফিরে এসেছেন তা জানিনা । আমি জেলা আইন শৃংখলা সভায় কর্মকর্তা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে অবিহিত করেছি কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + 4 =

আরও পড়ুন