বান্দরবানে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা

fec-image

বান্দরবান নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ গেটে ঝুলছে জীবানুনাশক স্প্রে বোতল। আশপাশে করোনা সতর্কতামূলক কোন লিফলেট বা ব্যনার নেই। অন্যদিকে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের দৃশ্যও এক। সেখানে দেখা যায়নি করোনা প্রতিরোধে লক্ষনীয় কোন তৎপরতা। পর্যটকরা দলবেধে বিনাবাধাঁয় ঢুকছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে।

এভাবে বান্দরবানের বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্রে ভীড় দেখা গেছে। যদিওবা গেটে নিয়োজিত কর্মচারীরা বলছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোকজন ঢুকানো হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকলেও এর প্রভাব পড়েনি পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে দিন দিন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটক বাড়লেও শহরের স্থানীয় মানুষ বা পর্যটকদের অধিকাংশের মাঝে সংক্রমণ ভীতি দেখা যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর এই মৌসুমে বান্দরবানে পর্যটক আসা শুরু করে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রথম ধাপ অতিক্রম করে এখন দ্বিতীয় ধাপ পার হতে চলছে। করোনা মহামারি পুরোপুরি কেটে না গেলেও বান্দরবানে বেড়েছে পর্যটক আগমণ। এখন অনেকটা ব্যবসাও বেড়েছে তাদের। এদিকে শহরের কয়েকটি আবাসিক হোটেলে নামমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পর্যটন ব্যবসায়ীরা বা পর্যটকরা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

কিছু কিছু মানুষের মুখে মাস্কের ব্যবহার দেখা গেলেও সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে মানা হচ্ছে না।সরেজমিনে কথা হলে নীলাচল পর্যটন গেটে দায়িত্বরত আদিপ দাশ এই প্রতিবেদককে জানান- স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সরকারি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী পর্যটকদের এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ক্ষেত্রে পর্যটকদেরও নিজেদের থেকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে নীলাচল নীলাম্বরী রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন-করোনা সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠার পর এখন ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়ছে রিসোর্টে। সরকারি নির্দেশনা মতো পর্যটকদের মাস্ক বাধ্যতামূলক এবং জীবানুনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতিটি রুমে।

এর আগে প্রায় পাচঁ মাস বন্ধ থাকার পর গত ২১ আগষ্ট শর্তসাপেক্ষে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। ওই সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কড়া নজরদারির কথা বলেছিলো প্রশাসন। মাস্ক ছাড়া কাউকে পর্যটন কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না এমনটি বলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ৯নভেম্বর পর্যন্ত বান্দরবানে ৫হাজার ৪৪০জনের নমুনা পরীক্ষার পর ৮২০জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪জনের। যার মধ্যে গত ৭ ও ৮নভেম্বর যথাক্রমে ৯ ও ৮জন করে করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে বান্দরবা‌নে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ ও সচেতনতার লক্ষ্যে আপনার মাস্ক কোথায় এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মাস্ক বিতরণ ও স‌চেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সা‌ড়ে ১০টায় ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এর উ‌দ্যো‌গে সারাদেশর মত বান্দরবা‌নেও ভলান্টিয়াররা মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতা নিয়ে প্রচারণা চা‌লি‌য়ে‌ছেন। সচেতনতা প্রচারণায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থে‌কে পথচারী জনসাধারণকে মাস্ক প‌ড়ি‌য়ে দেন বান্দরবানের পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটন, বান্দরবান, স্বাস্থ্যবিধি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × five =

আরও পড়ুন