বিলাইছড়িতে জেএলএ-কেএনএফ বন্দুকযুদ্ধ: নিহত ৪

fec-image

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’র (কেএনএফ) হামলায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র গ্রুপ জুম্মল্যান্ড আর্মির (জেএলএ) ৪ সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেএনএফ’র হেডকোয়াটার্স’র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সলোমন।

নিহতরা হলেন বিচাই চন্দ্র ত্রিপুরা (৫২), সুভাষ চন্দ্র ত্রিপুরা (২৩), বীর কুমার ত্রিপুরা (২১) ও ধনরাম ত্রিপুরা (১৬)

সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ তাদের নিজস্ব ফেইসবুক পেইজে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ করে বলেন, মঙ্গলবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বিলাইছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম বড়তলী ইউনিয়নের জাইজাম পাড়ায় জেএলএ’র নতুন সৃষ্ট সশস্ত্র বেসমেন্ট ক্যাম্পে কেএনএফ’র স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স হেড-হান্টার টিম সফলভাবে হামলা চালায়।  এতে জেএলএ’র তিনজন সশস্ত্র সদস্য ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে আরও একজন মারা যায়। তবে আহত জেএলএ’র অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে পালিতে যেতে সক্ষম হয়।

কেএনএফ আরও দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে জুম্মল্যান্ড আর্মি জাইজাম এলাকায় স্থানীয় নিরীহ বম, খিয়াং, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কিন্তু জেএলএ উক্ত গ্রামবাসীকে সেখান থেকে চলে যেতে হুমকি দেয় এবং নির্যাতন করে। যে কারণে ভয়ে স্থানীয়রা তাদের সহায় সম্পদ ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় নারীদের উপরে তারা নির্যাতন করছে, তাদের ক্যাম্পে রান্না করতে বাধ্য করছে। জেএলএ’র এসব অপকর্ম বেশ কয়েকদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেছে কেএনফ বাহিনী।

সংগঠনটি বলছে, জেএলএ ওই এলাকায় তাদের সশস্ত্র ক্যাম্প তৈরি করেছে মূলত টহলরত সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালানো এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে।

সংগঠনটি জানায়, গত সপ্তাহে জেএলএ বাহিনী তাদের একটি ক্যাম্পে হামলা চালালে উল্টে জেএলএ’র ১৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩০-৪০ জন আহত হন। তবে জেএলএ’র দাবি ছিল উক্ত হামলায় কেএনএফের ২৮ জন নিহত হয়, যার মধ্যে দুইজন নারী সহ ১৬ জন স্পট ডেড।

তবে জেএসএস’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা দাবি করছেন, কেএনফ যাদের হত্যা করেছে তারা সকলে নিরীহ জনগণ। তাদের কোন সদস্য এ ঘটনায় নিহত হননি।

বড়তলী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড এর গ্রাম পুলিশ সদস্য শৈহ্লামং মারমা বলেন, আমিও গ্রামের বাসিন্দাদের কাছ থেকে শুনেছি। তবে যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেটি অনেক দুর্গম এলাকা। সেখানে যেতে ৫-৬ ঘন্টা লাগে।

তবে ৪নং বড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতোমং মারমা জানান, খবর পেয়েছি গতকাল ২১ জুন, আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় বিলাইছড়ি উপজেলার বড়তলী ইউপির অন্তর্গত সাইজাম পাড়া এলাকায় ঢুকে কুকি-চিন সদস্যরা এসে অতর্কিতে গুলি করলে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিরীহ গ্রামবাসী মারা গেছে। পরে আরও একজনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

গ্রামটি বিলাইছড়ি উপজেলাধীন হলেও বান্দরবানের রুমা উপজেলা দিয়ে যাতায়াত করা যায়। তবে পায়ে হেঁটে গেলে ২ থেকে ৩ দিন লাগে। যেকোন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে যাতায়াত করতে হয়।

বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীরের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 11 =

আরও পড়ুন