অরক্ষিত মাতারবাড়ি : বিপদের আশঙ্কায় ৯০ হাজার মানুষ

fec-image

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন বঙ্গোপসাগরের মোহনায় হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের তোপের মুখে থাকে প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাতারবাড়ির মানুষগুলো সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাতারবাড়িতে ১৪ শ’ একর জায়গার উপর নির্মিত ১২ শ’ মেঘাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। বলা হচ্ছে মিনি সিঙ্গাপুর। এরপরেও নেই কোন টেকসই বেড়ীবাঁধ। যার ফলে অরক্ষিত মাতারবাড়ি ও মাতারবাড়ি প্রায় ৯০ হাজার ঘনবসতির মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। টানা প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ হলেও ভরা মৌসুমে জোয়ারের পানি প্রবল আকারে বেড়ে গেলে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে বসবাসরত লোকজনের আতঙ্ক বিরাজ করে। তাদের আর্তনাদে যেন আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। মাতারবাড়ির প্রতিটি ঘরে ঘরে চলছে নিরব কাঁন্না। বর্ষা শুরু হলেই পানির সাথে যুদ্ধ করে চলতে হয় অর্ধেকের চাইতে বেশি জনবসতির লোকজনের।

সাগরের জোয়ারের পানি, প্রবল বৃষ্টির পানি ও সৃষ্ট জ্বলোচ্ছাসে তলিয়ে যাই মাতারবাড়ির দক্ষিণ রাজঘাট, বিলপাড়া , উত্তর সিকদারপাড়া, দক্ষিণ সাইরারডেইল, সর্দার পাড়াসহ অনেক নিম্নাঞ্চল।

স্থায়ীভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ার কারণে বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হয় মাতারবাড়ির মানুষজনের। প্রতি বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাতারবাড়ির অনেক মানুষ অকালেই প্রাণ হারিয়েছে।

চলতি বছরে একাধিকবার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমের সাইডপাড়ায় বসবাসরত অনেক ঘরবাড়ি সাগরে বিলিন হয়ে গেছে।

মাতারবাড়ীর ৯০ হাজার মানুষ সময়ে অসময়ে তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার পেশ করার পরও কোন দাবি পুরণ করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। চিংড়িঘের, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট সাগরের অতলতলে তলিয়ে যাই।

এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ্ জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার জন্য তারা আশ্বস্ত করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মহেশখালী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন