এককভাবে কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই

ডাকসু নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি ও উৎসবমুখর হবার আভাস

fec-image

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। শিক্ষার্থীরা বলছেন এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর। তাছাড়া হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসও দিয়েছেন তারা। এককভাবে কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনের চেয়ে এবারের ডাকসু নির্বাচন হবে একেবারেই ভিন্ন। গতবার ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের আধিপত্যের জন্য শিক্ষার্থীরা সেভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেনি এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগও আছে। এ ছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উঠে আসা সর্বশেষ ভিপি নুরুল হক নুরের জনপ্রিয়তাও তখন ছিল তুঙ্গে। তবে এবার জনপ্রিয়তার নিরিখে নির্দিষ্ট করে কাউকে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ভিপি, জিএস, এজিএস পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে—এমন আভাসই মিলছে। এ ছাড়া অন্যান্য পদেও গত নির্বাচনের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি হবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী সাংবাদকিদের বলেন, এবারের নির্বাচনে কে জিতবে বলা মুশকিল। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাগছাস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে অনেকের সম্ভাবনা আছে। শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে জেতে, তা দেখার বিষয়। আশা করি, এবারের ভোট খুবই উৎসবমুখর হবে।

পার্থক্য গড়ে দেবেন নারী ভোটাররা:
২০১৯ সালের ডাকসুর বিস্তারিত ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ছাত্রলীগের বাইরে থেকে নুরুল ও আখতারের জয়ে মূল ভূমিকা রাখে পাঁচটি হলের ছাত্রীদের ভোট। এবারের নির্বাচনেও তারা বড় ফ্যাক্টর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ২০ হাজার ৮৭১ জন ও ছাত্রী ভোটার ১৮ হাজার ৯০২ জন। প্রায় অর্ধেক নারী ভোটার নির্বাচনে বড় প্রভাব রাখবে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

ডাকসু নির্বাচনে একঝাঁক নারী প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা স্বতন্ত্র প্যানেলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক মিতু আক্তার লড়বেন কেন্দ্রীয় সংসদে। ১৫ জুলাইয়ে হামলার শিকার রক্তাক্ত মুখ আলোচিত শিক্ষার্থী সানজিদা আহমেদ তন্বী ও গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের নওরিন সুলতানা তমাও থাকছেন ভোটের লড়াইয়ে। কেন্দ্রীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শেখ তাসনুভা সৃষ্টি, শামসুন্নাহার হল থেকে কেন্দ্রীয় সংসদে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে লড়বেন ইসরাত জাহান ইমু। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহফুজা নওয়ার নওরিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের কুররাতুল আইন কানিজ, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অদিতি ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুর্মি চাকমা, ছাত্রদল নেত্রী চেমন ফারিয়া লড়বেন বলে জানিয়েছেন।

উমামা ফাতেমা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক বছর নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। নারী ভোটাররা যেমনিভাবে গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে শামিল ছিল, তেমনি নেতৃত্বও দেবেন। আর যারা ভোটার তারাও যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সালমা আক্তার নামে এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো যৌক্তিক আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীরা সবসময় সামনে থাকে, অথচ তারাই সবসময় সবক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। এক নারী শিক্ষার্থী আরেক নারী শিক্ষার্থীর হলে প্রবেশ করতে পারে না। ক্যাম্পাস, বিভাগ ও হলে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়েও কোনো বিচার পায় না। এসব সমস্যা সমাধানে যে কাজ করবে তাকেই ভোট দেব।

উল্লেখ্য, তপশিল অনুযায়ী ১৮ আগস্ট সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৯ আগস্ট বিকেল ৩টা। আগামীকাল ২০ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই ও ২১ আগস্ট প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন ২৫ আগস্ট। প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৬ আগস্ট।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ডাকসু নির্বাচন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন